মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা বাবুবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সকাল ৬:৪০ মিনিটে ১৪ তলা বিশিষ্ট হাজী টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে টাওয়ারের অভ্যন্তর এবং আশেপাশের দোকানপাটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের অভ্যন্তরীণ লোকজন এবং দোকানদাররা নিরাপদ স্থানে চলে যান, আর আশেপাশের এলাকাও অচেনা আতঙ্কে পূর্ণ হয়ে ওঠে।
আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পদক্ষেপ শুরু হয়। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সদরঘাট, সিদ্ধিক বাজার ও সুত্রাপুর স্টেশন থেকে মোট নয়টি ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সদরঘাট থেকে দুইটি, সিদ্ধিক বাজার থেকে পাঁচটি এবং সুত্রাপুর থেকে দুটি ইউনিট যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। প্রায় ৪০ মিনিটের তীক্ষ্ণ লড়াই শেষে সকাল ৭:২০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কোনো হতাহতের খবর নেই। তবে ভবনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতির ছাপ স্পষ্ট। অনেক পরিবার ও দোকানদারকে বাড়ি থেকে সরিয়ে আনতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিরাপদ দূরত্ব থেকে ছয়তলা পর্যন্ত আগুনের বিস্তারকে চিন্তাভরে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা জানালেন, পুরো সময়টি আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় ভরা ছিল।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা উচ্চতাবিশিষ্ট ভবনের আগুন নিভানোর ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল প্রকৃতির কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, একাধিক ইউনিটের সমন্বিত কার্যক্রম ছাড়া আগুনের দ্রুত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এতে আশেপাশের দোকান, যানবাহন এবং অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষতি কমানো যায়।
স্থানীয় প্রশাসন ভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং আশেপাশের ভবনগুলোর সুরক্ষা যাচাই করছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আগুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আগুনের প্রকৃত কারণ এখনও অজানা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ তদন্তে আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এদিকে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা আগুন প্রতিরোধে আরও সচেতন হয়ে উঠছেন। প্রশাসন নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং জরুরি নির্দেশাবলী মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ব্যস্ত ও জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকায় আগুন নিরাপত্তার কঠোর নীতিমালা ও প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি। দ্রুত ও সমন্বিত জরুরি সেবার ভূমিকা জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় অপরিসীম।



