খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় শীর্ষ নেতা আবদুল হালিমকে বহিষ্কার করেছে কলাপাড়া উপজেলা শাখা। অভিযোগ আছে, তিনি নিজের বাসায় যৌনকর্মীদের আশ্রয় দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, বিশেষ রোকন বৈঠকের পর, যা উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ আয়োজন করেন।
আবদুল হালিম, লতাচাপলী ইউনিয়নের মুসুল্লিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা, কুয়াকাটা এলাকার জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি আগে ‘ওলামা লীগ নেতা’ পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেন, যা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতো।
কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে, পৌর শাখার জামায়াত আমীর মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিশেষ রোকন বৈঠকে উপজেলা ও পৌর শাখার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রমাণাদি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং সংগঠনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”
বিশেষ রোকন বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বৈঠক আয়োজন | কলাপাড়া উপজেলা জামায়াত |
| উপস্থিতি | উপজেলা আমীর মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম, কুয়াকাটা পৌর আমীর মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সাবেক আমীর মাওলানা মাইনুল ইসলাম মান্নান, সিনিয়র নেতা ও কর্মী |
| অভিযোগের প্রকৃতি | বাসায় যৌনকর্মীদের আশ্রয় দেওয়া; পারিবারিক অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা |
| সিদ্ধান্ত | জামায়াত-ই-ইসলামী থেকে বহিষ্কার |
| বহিষ্কারের তারিখ | ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ |
স্থানীয় ও পার্টির সূত্রে জানা গেছে, আবদুল হালিম পারিবারিক অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেয়ার আড়ালে প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়।
প্রত্যক্ষ মন্তব্যে আবদুল হালিম বলেন, “আমার বাসার ছয়টি পারিবারিক অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়া আছে। দুই মাস আগে চারজন মহিলা, মা ও কন্যা ভান করে, একটি ইউনিট ভাড়া নিয়েছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ড এখন আমার দায়িত্বের বাইরে। আমাকে কোনো আলোচনার আগে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার বক্তব্য নেওয়া হতো, তবে এমন সিদ্ধান্ত হতো না।”
উপজেলা জামায়াত আমীর মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, “সংগঠনের নিয়ম-কানুন মানা গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশেষ রোকন বৈঠক আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে ডাকা হয়েছিল। verified তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”
বহিষ্কারের খবর স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এটি দলের নৈতিক দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ে কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরেছে।