খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে সরকারের রেমিট্যান্স প্রণোদনা বকেয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে রয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংককে ৪,০০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে, যা তাদের নগদ প্রবাহ ও লাভজনকতা ব্যবস্থাপনাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে মধ্যম ও ছোট ব্যাংকগুলো এই অর্থায়নিক চাপ বেশি অনুভব করছে।
সরকারের প্রণোদনা নীতি অনুযায়ী, প্রবাসী কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্সের ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা হিসেবে পরিবারের কাছে ব্যাংকগুলো প্রদান করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলোর ব্যয় পূরণ করে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এই প্রতিপূরণ প্রায় তিন মাস ধরে স্থগিত রয়েছে, যার ফলে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের তহবিল ব্যবহার করতে হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রের খবর, নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বকেয়া প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা ছিল এবং ডিসেম্বর মাসে এটি আরও ৫০০ কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর ওপর প্রণোদনা প্রদানের চাপ আরও বাড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হুসাইন বলেন, “সরকারের ভর্তুকি কার্যক্রমের কারণে ব্যাংকগুলো নিজেদের তহবিল ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী বিলম্ব ব্যাংকের কার্যক্রম ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।”
নীচের টেবিলে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ অনুযায়ী প্রধান ব্যাংকগুলোর বকেয়া পরিমাণ দেখানো হলো:
| ব্যাংক | বকেয়া পরিমাণ (কোটি টাকা) |
|---|---|
| সিটি ব্যাংক | ১৮৫ |
| ব্র্যাক ব্যাংক | ৪৪৫ |
| ট্রাস্ট ব্যাংক | ৪০০ |
| পাবলী ব্যাংক | ১৬০ |
| মোট | ১,১৯০ |
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের মতো এক মাসের মধ্যে প্রতিপূরণ পাওয়া যেত। বর্তমানে বিলম্ব তিন থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের তহবিল থেকে প্রণোদনা দিতে হচ্ছে, যা অন্যান্য উচ্চমুনাফার বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত করছে।
উদাহরণস্বরূপ, ১ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স (প্রতি ডলারের মান ১২২.৩০ টাকা ধরা হলে) ব্যাংককে ১.২২ কোটি টাকার দায় বহন করতে বাধ্য করে। বড় ব্যাংক তুলনায় মধ্যম ও ছোট ব্যাংকগুলোতে এই চাপ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান জানিয়েছেন, বকেয়া দীর্ঘ হলেও সব প্রণোদনা পরিশোধ করা হবে এবং স্থায়ী চুক্তিভঙ্গের ঝুঁকি নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের দ্রুত প্রতিপূরণ ব্যবস্থাপনা ও বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ব্যাংক খাতের দীর্ঘমেয়াদি চাপ এড়ানো যায়।