খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের পাহাড়ি অঞ্চলে নিখোঁজ হওয়া ছোট বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইয়োগ্যাকার্তা থেকে সাউথ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের পথে যাত্রার সময় রাডার থেকে অদৃশ্য হওয়া এই বিমানটিতে মোট ১১ জন ছিলেন। উদ্ধারকাজে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির মূল অংশ এবং পেছনের অংশ পাহাড়ের উত্তর ঢালে ছড়িয়ে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার দপ্তরের প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানিয়েছেন, রোববার সকালবেলা বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার থেকে মাউন্ট বুলুসারাউং এলাকায় একটি জানালার অংশ পাওয়া যায়। পরে উদ্ধারকারী দল মূল ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে। আনোয়ার বলেন, “বিমানের মূল অংশের অবস্থান শনাক্ত হওয়ায় আমাদের অনুসন্ধান এলাকা অনেকটা সংকুচিত হয়েছে। এটি হতাহতদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন বিশেষ করে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকা যাত্রীদের খুঁজে বের করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”
ধ্বংসাবশেষ পাওয়া বিমানটি তুর্বোপ্রপ ATR 42-500 এবং এটি ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট কর্তৃক পরিচালিত হত। বিমানে ছিলেন আটজন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী, যারা সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের আকাশপথে সমুদ্র নজরদারি মিশনে যাচ্ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারী দল ঘন কুয়াশা ও খাড়াপাহাড়ি ঢাল পেরিয়ে ধ্বংসাবশেষে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার কারণে যোগাযোগ ও আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে।
দেশটি প্রায় ১৭,০০০ দ্বীপের মধ্যে সংযোগ রক্ষায় বিমান ও ফেরি ব্যবহারে নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন ধরনের পরিবহন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান দুর্ঘটনা, বাস দুর্ঘটনা এবং ফেরি ডুবে যাওয়া।
নিচের টেবিলে বিমান ও যাত্রীসংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিমান ধরন | ATR 42-500 (তুর্বোপ্রপ) |
| পরিচালনাকারী | ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট |
| মোট যাত্রী ও ক্রু | ১১ জন (৮ ক্রু, ৩ যাত্রী) |
| যাত্রার রুট | ইয়োগ্যাকার্তা → মাকাসার |
| মিশনের উদ্দেশ্য | সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারি |
| ধ্বংসাবশেষের অবস্থান | মাউন্ট বুলুসারাউং, উত্তর ঢাল |
| উদ্ধার অভিযান | বিমান বাহিনী হেলিকপ্টার + উদ্ধার দল |
এই দুর্ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও পাহাড়ি অঞ্চলে বিমান পরিচালনার চ্যালেঞ্জের দিকে আবারও আলোকপাত করেছে।