খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। এ দুটি ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলায় বুধবার আরও তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে প্রথম আলো মামলায় কারাবন্দি আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে এবং ডেইলি স্টারের মামলায় ১০ জনে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত পৃথক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিন আসামিকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয় এবং পৌনে সাতটার পর তাঁদের আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। প্রথম আলো সংক্রান্ত মামলায় দুই আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—ময়মনসিংহের জাকির হোসেন শান্ত (২৯), ভোলার নিয়াজ মাহমুদ ফারহান (২১) এবং আজমির হোসেন আকাশ (২৭)। এর মধ্যে আকাশকে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
২১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের একাধিক ধারায় এ মামলা করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা সৃষ্টি করে হামলাকারীরা অবৈধভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া, কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করা এবং পত্রিকার প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে অনলাইনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উসকানি ও অন্তর্ঘাতমূলক নির্দেশনার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, শুধু লুট করা সম্পদের মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রাথমিক হিসাবে সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
ডেইলি স্টারের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির হেড অব অপারেশন মো. মিজানুর রহমান ২২ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে ৩৫০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে লাঠিসোঁটা ও দাহ্য পদার্থ হাতে একদল হামলাকারী উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে ভবনে ঢুকে পড়ে। তারা কর্মীদের ওপর শারীরিক হামলা চালায়, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে এবং ভবনের একাধিক তলায় অগ্নিসংযোগ করে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ধ্বংস করা হয়।
| প্রতিষ্ঠান | লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন | প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ |
|---|---|---|
| প্রথম আলো | লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অবকাঠামো ক্ষতি | প্রায় ৩২ কোটি টাকা |
| ডেইলি স্টার | ২০০+ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, নগদ অর্থ, অগ্নিসংযোগ | প্রায় ৪০ কোটি টাকা |
ডেইলি স্টারের ঘটনায় ২০০টির বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ লুট করা হয়। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪০ কোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার সময় ভবনের ভেতর আটকা পড়া প্রায় ৩০ জন কর্মীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার জেরে পরদিন পত্রিকাটির মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ রাখতে হয় এবং প্রায় ১৭ ঘণ্টা অনলাইন কার্যক্রম স্থগিত থাকে।
এই দুই প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় গণমাধ্যমের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির দিকে এখন তাকিয়ে দেশবাসী।