খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের বিভিন্ন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। সম্প্রতি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার অভিযোগের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বিস্তার লাভ করছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখরচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে বলেন, লেবাননে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশনে যদি ইসরাইল হামলা চালায়, তবে বিশ্বজুড়ে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তাঁর ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে তেহরান নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই উত্তেজনা তীব্র হতে থাকে। তেহরান ওই হামলাকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে জবাব দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলা মূলত ইসরাইলি সামরিক স্থাপনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে ইসরাইলও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই এক বিবৃতিতে বলেন, লেবাননে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধিদের দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তিনি জানান, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় তাদের সরে যাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয় দেশের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা প্রায়ই নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে তাদের দূতাবাস ও নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের কিছু এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক মিশনগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত হলেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এগুলো প্রায়ই প্রতীকী লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। ফলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ইসরাইলি দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতে পারে।
মূল ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রধান পক্ষ | ইরান ও ইসরাইল |
| উত্তেজনার সূত্রপাত | ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার অভিযোগ |
| ইরানের হুঁশিয়ারি | বিশ্বজুড়ে ইসরাইলি দূতাবাস লক্ষ্যবস্তু হতে পারে |
| সম্ভাব্য কেন্দ্র | লেবাননে ইরানি মিশন |
| ইসরাইলের পদক্ষেপ | লেবাননে ইরানি প্রতিনিধিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরে যাওয়ার সতর্কতা |
| আন্তর্জাতিক উদ্বেগ | মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা |
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।