খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় শাহবাগে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দিনভর অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি গড়িয়েছে মধ্যরাত পর্যন্ত। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের উপদেষ্টারা সরাসরি রাজপথে এসে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি খুনিদের বিচার এবং তাদের পলায়নে সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
বিকেলে শাহবাগের মোড়ে শত শত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, তাঁরা রাতভর শাহবাগে অবস্থান করবেন এবং এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছেন। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, ওসমান হাদি জীবিত থাকতে শীতার্তদের জন্য যে কম্বলগুলো কিনেছিলেন, সেই কম্বল দিয়েই আজ রাতে কর্মীরা শাহবাগের রাজপথে শীত নিবারণ করবেন। কর্মসূচি শেষে এই কম্বলগুলো আবার দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হবে।
নিচে হাদি হত্যাকাণ্ড ও ইনকিলাব মঞ্চের চলমান কর্মসূচির একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনার বিবরণ | বর্তমান অবস্থা ও মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১২ ডিসেম্বর | পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদিকে গুলি করা হয়। | প্রকাশ্যে দিবালোকে মাথায় গুলি করে আততায়ীরা। |
| ১৮ ডিসেম্বর | সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু। | জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সাহসী কণ্ঠস্বর নীরব হয়। |
| ২০ ডিসেম্বর | মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা ও ঢাবিতে দাফন। | লাখো মানুষের জানাজায় বিচার চাওয়ার অঙ্গীকার। |
| ২৬ ডিসেম্বর (রাত) | শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান ও অবরোধ শুরু। | খুনি ফয়সাল করিম মাসুদ পলাতক থাকায় বিক্ষোভ। |
| ২৭ ডিসেম্বর (আজ) | দিনভর অবরোধ ও সারা রাত শাহবাগে অবস্থানের ঘোষণা। | উপদেষ্টাদের উপস্থিতি ও গ্রেপ্তারের দাবিতে অনড় আন্দোলন। |
বিক্ষোভ চলাকালীন সন্ধ্যায় শহীদ হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। তিনি প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ কিংবা সেনানিবাস ঘেরাও করার মতো চরম আল্টিমেটামও প্রদান করেন। আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে ‘বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘সুশীলতার দিন শেষ, বিচার চাই বাংলাদেশ’—এমন সব তেজোদীপ্ত স্লোগান দিতে থাকেন।
অবরোধের কারণে শাহবাগ ও এর আশপাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলেও ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠেয় একটি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। আব্দুল্লাহ আল জাবের স্পষ্ট করেন যে, সকাল ৯টা থেকে তাঁরা চারপাশ ঘিরে অবস্থান নিলেও পরীক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেবেন, তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মূল অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
উল্লেখ্য যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ইনকিলাব মঞ্চ গঠিত হয়েছিল। এর প্রতিষ্ঠাতা ওসমান হাদি ছিলেন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের একজন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা, মা ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলেও, প্রধান ঘাতক ফয়সাল ভারতে পালিয়ে গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই পালানোর প্রক্রিয়ায় যারা সহায়তা করেছে, তাদেরও খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।