খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে পৌষ ১৪৩২ | ২৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা এলাকায় এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক বিবাদের জের ধরে মাস্তুরা আক্তার সুমা (২৮) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিককে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তাঁর স্বামী জালাল উদ্দিন দুলু। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী তাঁর শ্বশুরকে ফোন করে অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে মেয়ের খুনের সংবাদ দিয়ে লাশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ তালাবদ্ধ ঘর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
নিহত মাস্তুরা আক্তার সুমা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার পূর্ব নড়াইল এলাকার মিরাজুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী জালাল উদ্দিন দুলু রংপুরের বাসিন্দা। তাঁরা দুজনেই গাজীপুরের ‘টেক্স ইউরো বিডি’ নামক একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং মহানগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দনা হাজি মার্কেট এলাকার রমিজ ভিলার তৃতীয় তলায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ঘটনার পূর্বাপর ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহতের পরিচয় | মাস্তুরা আক্তার সুমা (২৮), পোশাক শ্রমিক। |
| অভিযুক্তের পরিচয় | জালাল উদ্দিন দুলু (স্বামী), বর্তমানে পলাতক। |
| ঘটনাস্থল | চান্দনা হাজি মার্কেট ঈমান আলী মোড়, গাজীপুর। |
| ঘটনার সময় | বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাত। |
| হত্যার ধরন | শ্বাসরোধে হত্যা এবং লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা। |
| মামলার অবস্থা | নিহতের বাবা বাদী হয়ে বাসন থানায় মামলা করেছেন। |
| মরদেহের অবস্থা | শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। |
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কারখানা থেকে ফিরে রান্নাবান্না শেষ করেন সুমা। রাত ১২টার দিকে তাঁর স্বামী দুলু বাসায় ফেরেন। প্রতিবেশীরা মাঝরাতে তাঁদের ঘর থেকে ঝগড়া-বিবাদের শব্দ শুনতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুলু সুমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং এরপর ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান।
শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দুলু তাঁর শ্বশুর মিরাজুল ইসলামকে ফোন করে বলেন, “আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি, ঘরে লাশ পড়ে আছে, এসে নিয়ে যান।” এ কথা শুনে আতঙ্কিত বাবা দ্রুত স্বজনদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সুমার এক আত্মীয় ওই বাসায় গিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে বাসন থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং কম্বল মোড়ানো অবস্থায় সুমার নিথর দেহ উদ্ধার করে।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। নিহতের শরীরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত দুলু পলাতক থাকলেও তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।