খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
তুরস্কে আয়োজিত তিনদিনের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসী হামলার জন্য আফগান মাটি ব্যবহার করা হলে ইসলামাবাদ ‘আফগানিস্তানের গভীরে’ পর্যন্ত হামলা চালাবে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাজা আসিফ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘যদি তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয় এবং তারা আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আমাদের যদি আফগানিস্তানের গভীরেও যেতে হয়, আমরা তাই করব।’
এর আগের দিন (২৮ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার তিনদিনব্যাপী শান্তি আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। ফলে সীমান্ত সংঘাত নিরসনে দুই দেশের শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়ে।
আজ বুধবার পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও স্বীকার করেন, আলোচনায় ‘কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি’। তিনি বলেন, তুরস্কে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকের লক্ষ্য ছিল আফগান মাটি থেকে উৎসারিত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা, কিন্তু আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এরপরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা হামলা চালাব, আমরা অবশ্যই হামলা করব।’
চলতি মাসের শুরুর দিকে সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যা ২০২১ সালে তালেবানদের কাবুল দখলের পর সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েক ডজন ব্যক্তি নিহত হন।
সহিংসতা ঠেকাতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তির পর প্রথম দফায় ১৯ অক্টোবর কাতারে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বৈঠকের সময়ই খাজা আসিফ সতর্ক করে দিয়েছিলেন, আলোচনায় সমঝোতা ব্যর্থ হলে সেটি হবে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধের’ সূচনা।
রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ইস্তাম্বুল বৈঠক ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই শেষ হয়। উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার জন্য একে অপরকে দায়ী করে।
পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, আফগান ভূখণ্ডে অবস্থান করে পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) পাকিস্তানের সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাই ইসলামাবাদের দাবি, আফগান সরকারকে অবশ্যই টিটিপিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। অন্যদিকে আফগান কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, টিটিপির ওপর তাদের কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই। এই মতবিরোধ থেকেই আলোচনা উত্তেজনায় গড়িয়ে ভেঙে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বুধবার খাজা আসিফ বলেন, ‘কাবুল কোনওভাবেই কোনো সমাধানের জন্য আন্তরিক ছিল না। ভারতের নির্দেশে এবং তার প্রতিনিধি হয়ে “ফিতনা আল-হিন্দুস্তান” আফগানিস্তানের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘কাবুলের পুরো নেতৃত্ব ভারতের হাতে খেলছে।’