খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে একীভূত প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের মধ্যে কোনো সরাসরি উত্তোলন কার্যক্রম চালু হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান শনিবার বলেন, “আমরা সকল আমানতকারীর অবগতির জন্য জানাই, তারা এ বছরের শেষের আগে তাদের অর্থ উত্তোলনের আশা না রাখুন। উত্তোলন কার্যক্রম কখন শুরু হবে, তা এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।” তিনি আরও জানান, সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের জন্য একটি প্রক্রিয়া তৈরির কাজ চলছে, তবে এটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে না।
সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত দাবিগুলো, যা ২৯ ডিসেম্বর থেকে উত্তোলন শুরু হবে বলে বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক “ভিত্তিহীন ও মিথ্যা” হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। আরিফ হোসেন খান জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফাঁদে পা না দিতে।
উল্লেখ্য, এই পাঁচটি ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—মিলে নতুন প্রতিষ্ঠান কম্বাইনড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, অ্যাকাউন্ট ডেটা স্থানান্তর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেটা স্থানান্তর সম্পন্ন হলে উত্তোলন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ পরিচালিত হবে:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর | পূর্ববর্তী সকল অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্বাইনড ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর হবে; নতুন কোনো আবেদন বা অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে না। |
| উত্তোলনের সীমা | বিদ্যমান চেকবুক ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। |
| অতিরিক্ত ব্যালান্স | ২ লাখ টাকার বেশি অর্থ অ্যাকাউন্টে সুরক্ষিত থাকবে এবং বর্তমান সুদের হারে সুদ অর্জন করবে। |
আরিফ হোসেন খান জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে সকল আমানতকারীর জন্য একটি নিরাপদ ও মসৃণ রূপান্তর নিশ্চিত করা হবে। তাদের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে এবং স্বার্থ রক্ষিত হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এই নিয়ন্ত্রিত উত্তোলন প্রক্রিয়া এবং ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পূর্ববর্তী অনিয়মের কারণে সৃষ্ট তহবিল ঘাটতি মোকাবিলা করা, আমানতকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ, ব্যাংকিং ব্যবস্থার টেকসইতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপন করা।
ফেজ অনুযায়ী উত্তোলন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করতে চায়, অর্থের সহজলভ্যতা বজায় থাকবে এবং একীভূত ব্যাংকের স্থিতিশীলতা রক্ষা পাবে। সংক্ষেপে, রূপান্তরকালীন সময়ে আমানতকারীর অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।