খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে পৌষ ১৪৩২ | ১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন—এই চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা করে হ্রাস করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য আজ রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে কার্যকর হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশোধিত দরের ফলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০২ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১১৪ টাকা থেকে কমে ১১২ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৮ টাকা থেকে কমে ১১৬ টাকা এবং অকটেনের দাম ১২২ টাকা থেকে কমিয়ে ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিচের টেবিলে জ্বালানি তেলের পুরোনো ও নতুন দরের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—
| জ্বালানির ধরন | আগের দাম (টাকা/লিটার) | নতুন দাম (টাকা/লিটার) | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| ডিজেল | ১০২ | ১০০ | −২ টাকা |
| কেরোসিন | ১১৪ | ১১২ | −২ টাকা |
| পেট্রোল | ১১৮ | ১১৬ | −২ টাকা |
| অকটেন | ১২২ | ১২০ | −২ টাকা |
সরকার সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি গত বছরের মার্চ মাস থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দামের ওঠানামার ভিত্তিতে দেশের বাজারে নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। একই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনায় প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামও নির্ধারণ করে আসছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র অনুযায়ী, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল, যা প্রধানত কৃষি সেচ, সড়ক পরিবহন, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেল থেকে।
বিপিসি জানায়, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রিতে সাধারণত প্রতিষ্ঠানটি লাভবান হয়ে থাকে। অতীতে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করত বিপিসি নিজেই। বর্তমানে এসব জ্বালানির দাম বিইআরসি মাসভিত্তিকভাবে সমন্বয় করছে। অন্যদিকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাতে।
জ্বালানি বিভাগ আরও জানায়, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ উন্নত বিশ্বের বহু দেশেই প্রতি মাসে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়। এই পদ্ধতি চালুর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমবে, আবার বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারেও তার প্রভাব পড়বে—এমন নীতিগত কাঠামোর মধ্যেই বর্তমানে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারিত হচ্ছে।