খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
তীব্র শীত এবং ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়া দক্ষিণ জনপদের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আজ মঙ্গলবার রাত থেকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। রাত ৯টার দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি বিলাসবহুল লঞ্চ যাত্রী নিয়ে রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিগত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণবঙ্গের নদীপথগুলোতে কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, দৃষ্টিসীমা কয়েক ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে গত রবি ও সোমবার বরিশাল-ঢাকা নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। দুই দিন পর লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা কাজ করছে। সাধারণত বরিশাল থেকে ঢাকা পৌঁছাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগলেও, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ধীরগতির কারণে এই যাত্রা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে।
বরিশাল নদীবন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বরিশাল ঘাট থেকে সরাসরি চারটি এবং ঝালকাঠি থেকে আসা একটিসহ মোট পাঁচটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি লঞ্চকে সতর্কতার সাথে এবং আধুনিক রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
| লঞ্চের নাম | যাত্রার ধরণ | ছাড়ার সময় | গন্তব্য |
|---|---|---|---|
| পারাবত-১১ | সরাসরি | রাত ৯:১৫ | ঢাকা |
| পারাবত-১২ | সরাসরি | রাত ৯:৩০ | ঢাকা |
| সুরভী-৭ | সরাসরি | রাত ৯:৪৫ | ঢাকা |
| এম খান-৭ | সরাসরি | রাত ৯:৫০ | ঢাকা |
| সুন্দরবন-১২ | ভায়া (ঝালকাঠি-বরিশাল) | রাত ১০:০০ | ঢাকা |
নদীবন্দরে অপেক্ষায় থাকা যাত্রী আব্দুল মোতালেব জানান, জরুরি কাজে ঢাকা যাওয়ার জন্য তিনি গত দুই দিন ধরে চেষ্টা করছিলেন। শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হলেও লঞ্চ চালু হওয়ায় তিনি খুশি। তবে মাঝপথে কুয়াশা বাড়লে লঞ্চ চরে আটকে পড়া বা মাঝ নদীতে নোঙর করে থাকার আশঙ্কাও করছেন অনেক সাধারণ যাত্রী। বিআইডব্লিউটিএ-এর ট্রাফিক পরিদর্শক জুলফিকার আলী জানিয়েছেন, সদর দপ্তরের নির্দেশনা ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে এই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে দৃষ্টিসীমা কমে গেলে যেকোনো সময় পুনরায় চলাচল বন্ধের নির্দেশ আসতে পারে।
নদীপথের পাশাপাশি সড়কপথেও কুয়াশার বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস ও ট্রাকগুলোকে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে, যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ২-৩ ঘণ্টা বেশি লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, কুয়াশার কারণে কোনো বাস চলাচল বন্ধ করা হয়নি, তবে চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে ও সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে গাড়ি চালানোর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত চার দিন ধরে এই অঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি থাকা এই সময়ে বরিশালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। কুয়াশার এই দাপট আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন।