খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও রুদ্ধশ্বাস অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের হুমকি ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাঁদের শোবার ঘর থেকে আটক করার দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জানিয়েছেন যে, রাজধানী কারাকাসে এক অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো দম্পতিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে এই অভিযানের বর্ণনা দেন। তিনি দাবি করেন, অভিযানের সময় পুরো কারাকাস শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকার নামিয়ে আনা হয়েছিল, যাতে মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি কেউ টের না পায়। ট্রাম্পের মতে, মাদুরো যে স্থানে অবস্থান করছিলেন সেটি ছিল একটি ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’। তবুও আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ কমান্ডোদের মাধ্যমে সেই দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে মাদুরোর শোবার ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে সস্ত্রীক আটক করা হয়। ট্রাম্প এই সাফল্যকে যুক্তরাষ্ট্রের এক অনন্য অর্জন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “বিশ্বের আর কোনো রাষ্ট্র এই সক্ষমতা দেখাতে পারেনি।”
মাদুরো আটক অভিযানের সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র
| অভিযানের ধাপ | বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের সময় | শুক্রবার দিবাগত গভীর রাত (স্থানীয় সময়)। |
| নেতৃত্বদানকারী বাহিনী | এফবিআই (FBI) এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ দল। |
| আটককৃত ব্যক্তিবর্গ | নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস। |
| কৌশলগত পদক্ষেপ | কারাকাসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও ব্ল্যাকআউট। |
| ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ | মার্কিন বাহিনীর কেউ নিহত হননি; কয়েকজন সামান্য আহত। |
| পরবর্তী অবস্থান | মাদুরো দম্পতিকে ভেনেজুয়েলা থেকে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। |
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই কারাকাসসহ পার্শ্ববর্তী মিরান্ডা ও আরাগুয়া প্রদেশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এটি ছিল মূলত ভেনেজুয়েলার সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার একটি কৌশল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা দীর্ঘ চার দিন ধরে সঠিক আবহাওয়া ও উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করছিলেন। অভিযানে এফবিআইয়ের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দল প্রধান ভূমিকা পালন করে, যারা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে প্রবেশ করে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে ক্ষমতায় বসানো হবে না। বরং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো কেমন হবে এবং কার হাতে ক্ষমতা যাবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনই গ্রহণ করবে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অসংখ্য দক্ষ সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ‘অসম্ভব’ কাজটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের ফলে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।
এই ঘটনার পর ভেনেজুয়েলা জুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে শোবার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেবে। তবে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষিণ আমেরিকার এই তেলসমৃদ্ধ দেশটির ওপর তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।