খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে পৌষ ১৪৩২ | ৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ এবং বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের মোবাইল ফোন বাজার। সরকারের নতুন এই ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে স্মার্টফোন ও গেজেট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সংগঠনের পক্ষ থেকে এই কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়, যার ফলে দেশজুড়ে মোবাইল কেনাবেচা ও সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমবিসিবির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা এক বিবৃতিতে জানান, এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সরকার মূলত বড় বড় মোবাইল কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ ক্ষুদ্র ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া বিটিআরসি ভবনে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ফাঁসানো হয়েছে এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যবসায়ীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করাই আন্দোলনের প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে।
মোবাইল ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি
| ক্রম | দাবির মূল বিষয়বস্তু | প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| ১ | এনইআইআর (NEIR) বাতিল | সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এই ব্যবস্থা বন্ধের দাবি। |
| ২ | গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি | বিটিআরসি ভবনে হামলার অভিযোগে ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি। |
| ৩ | আমদানি নীতি সহজীকরণ | আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত জটিল ও কঠোর বাধা প্রত্যাহার। |
| ৪ | কর হার হ্রাস | উচ্চ কর হারের পরিবর্তে যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণ। |
| ৫ | অবস্থান কর্মসূচি | ঢাকায় বড় জমায়েত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান আন্দোলনের ঘোষণা। |
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু দোকান বন্ধ রাখাই নয়, বরং আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াতে আগামীকাল রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের জমায়েত ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বাধা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট স্থানটি আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। শামীম মোল্লা বলেন, “কর হার কমানো এবং আমদানি নীতিমালা সহজ করার দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছিলাম। কিন্তু সরকার আলোচনার পরিবর্তে ধরপাকড় ও মামলার পথ বেছে নিয়েছে।”
উল্লেখ্য, বিটিআরসি সম্প্রতি অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের লক্ষ্যে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর করার পদক্ষেপ নেয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয় এবং এটি ছোট আমদানিকারকদের বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল। এই অচলাবস্থা নিরসনে বিটিআরসির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতার প্রস্তাব আসেনি। ফলে দেশের মোবাইল বাজার কতদিন অচল থাকবে, তা নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।