খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে পৌষ ১৪৩২ | ৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের রাজনীতিতে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রসঙ্গ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন বিজেপির একাংশের নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ খুঁজে বের করার বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এবার সেই বিতর্ক যেন আরও এক ধাপ এগোল, যখন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল তথাকথিত ‘বাংলাদেশি শনাক্তকরণ যন্ত্র’-এর ভিডিও।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজধানী দিল্লির কাছাকাছি উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ শহরে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শহরটি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কারণেও আলোচনায় ছিল—বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গাজিয়াবাদের বিহারি মার্কেট এলাকার একটি বস্তিতে অবৈধ অভিবাসী খোঁজার নামে বিশেষ অভিযান চালাতে যান কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানের সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখা যায়, একজন ব্যক্তির পিঠে মোবাইল ফোনের মতো একটি যন্ত্র ঠেকিয়ে বলতে—
“যন্ত্র বলছে, এই ব্যক্তি বাংলাদেশি।”
এই দৃশ্যের ভিডিও দ্রুতই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
দ্য হিন্দু পত্রিকার ২ জানুয়ারির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশ কর্মকর্তারা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে বস্তিবাসীদের ভয় দেখাচ্ছেন। একই ঘটনায় আনন্দবাজার পত্রিকা শিরোনাম করে—
“‘নাগরিকত্ব যাচাইয়ের যন্ত্র’ গায়ে ঠেকিয়ে ‘বাংলাদেশি’ শনাক্ত করছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ! বিতর্কের জেরে তদন্তের নির্দেশ।”
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করছেন, “আপনি কি বাংলাদেশি?” এরপর নিজেই বলেন, যন্ত্রে নাকি তাই দেখাচ্ছে। জবাবে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। এমনকি একজন নারী ও এক নাবালিকা পরিচয়পত্র দেখিয়েও নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা তা মানতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চরমে উঠলে গাজিয়াবাদ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়। দ্য হিন্দু জানায়, ২ জানুয়ারি কৌশাম্বী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। ইন্দিরাপুরম এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনার অভিষেক শ্রীবাস্তব জানান, ভিডিওটি তদন্ত করে দেখা গেছে এটি নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের সময় ধারণ করা। পুলিশের দাবি, এটি কোনো নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অভিযান ছিল না।
তবে বিরোধী দল কংগ্রেস এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায় বলেন,
“রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছ থেকে ন্যায়বিচারের আশা নেই। নির্দেশনা ওপর থেকেই আসে। আমরা চাই, উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে এই ঘটনার বিচার করুক।”
তার মতে, এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে হাস্যকর করে তুলেছে এবং এটি আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘনের উদাহরণ।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | গাজিয়াবাদ, উত্তরপ্রদেশ |
| অভিযানের তারিখ | ২৩ ডিসেম্বর |
| ভিডিও প্রকাশ | সমাজমাধ্যমে ভাইরাল |
| অভিযুক্ত থানা | কৌশাম্বী থানা |
| অভিযোগ | তথাকথিত যন্ত্র দিয়ে ‘বাংলাদেশি’ শনাক্ত |
| পুলিশ ব্যাখ্যা | নিয়মিত তল্লাশি অভিযান |
| বিরোধী প্রতিক্রিয়া | বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি |
| তদন্ত অবস্থা | সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সতর্ক |
এই ঘটনা শুধু একটি পুলিশি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে না, বরং ভারতীয় রাজনীতিতে নাগরিকত্ব, মানবাধিকার ও সংবিধানিক শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।