খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে যে, সরকার সরস্বতী পূজা, পবিত্র আশুরা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও জন্মাষ্টমীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জাতীয় ছুটি বাতিল করেছে। তবে সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও অসত্য’ বলে নিশ্চিত করেছে। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো বিশেষ ধর্মীয় বা জাতীয় দিবস বাতিল করা হয়নি; বরং নির্দিষ্ট দিবসগুলো সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ায় আলাদা করে ছুটির দিনের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপনটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশ কিছু দিবস শুক্র ও শনিবারের সাথে মিলে গেছে। সাধারণত সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারে কোনো দিবস যদি আগে থেকেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার বা শনিবার) পড়ে, তবে সেটির বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো দিন বরাদ্দ করা হয় না। প্রজ্ঞাপনে সেই দিনগুলোর বিপরীতে ছুটির সংখ্যা ‘শূন্য’ দেখানোর অর্থ হলো—সেদিন আলাদা করে বাড়তি ছুটির প্রয়োজন নেই। এটি একটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যা বিগত বছরগুলোতেও একইভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
নিচে ২০২৬ সালের সেই আলোচিত দিবসগুলোর তালিকা দেওয়া হলো যা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে:
| দিবস বা উৎসবের নাম | তারিখ | সাপ্তাহিক বার |
|---|---|---|
| শবে মেরাজ | ১৭ জানুয়ারি | শনিবার |
| শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা | ২৩ জানুয়ারি | শুক্রবার |
| শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ২১ ফেব্রুয়ারি | শনিবার |
| মে দিবস | ১ মে | শুক্রবার |
| বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা) | ১ মে | শুক্রবার |
| পবিত্র আশুরা (মহররম) | ২৬ জুন | শুক্রবার |
| শুভ জন্মাষ্টমী | ৪ সেপ্টেম্বর | শুক্রবার |
| মধু পূর্ণিমা | ২৬ সেপ্টেম্বর | শনিবার |
| শুভ মহালয়া | ১০ অক্টোবর | শুক্রবার |
প্রেস উইং আরও জানিয়েছে যে, বিগত ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করলেও একই চিত্র দেখা যায়। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো সাধারণ ছুটি বা নির্বাহী আদেশে ছুটি সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে পড়ে, তবে তাকে পৃথকভাবে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে গণনা করা হয় না। বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কিছু মহল এই প্রশাসনিক বিষয়টিকে ‘ছুটি বাতিল’ হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছে, যা ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের একটি অপচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এ ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনটি কেবল ছুটির দিনের হিসাব করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, দিবসগুলোর ধর্মীয় বা জাতীয় গুরুত্ব কমানোর জন্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে, তবে যেহেতু সেগুলো সাপ্তাহিক বন্ধের দিনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, তাই কর্মদিবস নষ্ট হওয়ার বা আলাদা ছুটির প্রয়োজন পড়ছে না। প্রেস উইং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।