খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে উদীয়মান ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিহতের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মণিরামপুর থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে পুলিশ রানার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পরিচিত ঝুমুর মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নিয়েছে। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী বাগেরহাটের একটি সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জন করেছিলেন। উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি কপালিয়া বাজারে নিজস্ব ব্যবসা ও বরফকল পরিচালনার সাথে যুক্ত হন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কপালিয়া বাজারের একটি নির্জন গলিতে তাঁকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘাতকরা হত্যাকাণ্ড শেষে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও তদন্তের প্রাথমিক তথ্যাবলি নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ইংরেজিতে উচ্চতর ডিগ্রি (মাস্টার্স) |
| পেশা ও ব্যবসা | ব্যবসায়ী (কপালিয়া বাজারে বরফকল মালিক) |
| হত্যাকাণ্ডের সময় | সোমবার সন্ধ্যা, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ |
| আটককৃত ব্যক্তি | ঝুমুর মণ্ডল (নিহতের বান্ধবী) |
| প্রাথমিক সন্দেহ | ব্যবসায়িক শত্রুতা ও ব্যক্তিগত রেষারেষি |
| মামলার বাদী | তুষার কান্তি বৈরাগী (নিহতের পিতা) |
নিহতের বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ আগে ঝুমুর মণ্ডল (যিনি স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারের সাথে যুক্ত) রানার বরফকলে এসে তাঁর সাথে কথা বলে চলে যান। এর পরপরই একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন যুবক এসে রানার সাথে আলাপ করে। কিছুক্ষণ পর রানা বরফকল থেকে বেরিয়ে হেঁটে বিউটি পার্লারের গলির দিকে গেলে সেখানেই ওত পেতে থাকা ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে। পরিবারের দাবি, রানাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় ঝুমুর মণ্ডলের গতিবিধি সন্দেহজনক।
অন্যদিকে, রানার স্ত্রী সীমা বৈরাগী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যবসায়িক শত্রুতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, কপালিয়া বাজারে আগে থেকেই অন্য এক ব্যক্তির বরফকল ছিল। রানা নতুন বরফকল দেওয়ার পর থেকেই ওই মালিক রানার সাথে শত্রুতা শুরু করেন এবং মাঝেমধ্যেই হুমকি দিতেন। সীমা বৈরাগীর দাবি, রানাকে প্রাণনাশের জন্য আগেও লোক ভাড়া করা হয়েছিল। রানা প্রায়ই বাসায় বলতেন যে ব্যবসায়িক কারণে তিনি ঝামেলার মধ্যে রয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রানার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাকি ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে ঝুমুর মণ্ডলকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কপালিয়া বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।