খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র তার ভিসা বন্ড নীতির আওতায় নতুন দেশগুলোর তালিকা বিস্তৃত করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে। এই তালিকার সম্প্রসারণের ফলে যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে আর্থিক জামানত বা “ভিসা বন্ড” প্রদান করতে হবে, তাদের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই আপডেট প্রকাশ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ বন্ড নির্ধারিত হয়েছে ১৫,০০০ মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ১,৮৩৫,০০০ বাংলাদেশি টাকা।
ভিসা বন্ড কী?
ভিসা বন্ড হল একটি আর্থিক নিরাপত্তা যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের কাছে তাদের ভিসার শর্তাবলী পূরণ নিশ্চিত করতে দাবি করা হয়। মূলত এটি নিশ্চিত করে যে, ভিসাধারীরা নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং অস্থায়ী কর্মীদের জন্য হাজার হাজার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদান করে। এই ভিসাগুলোর মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক বছরেরও হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বাইরে অবস্থান করলে, ভিসাধারীকে মার্কিন অভিবাসন আইনের লঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
নিম্নে নির্বাচিত দেশের সর্বোচ্চ ভিসা বন্ডের পরিমাণের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| দেশ | সর্বোচ্চ বন্ড (USD) | সমতুল্য বাংলাদেশি টাকা (প্রায়) |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ | 15,000 | 1,835,000 |
| দেশ ১ | 15,000 | 1,835,000 |
| দেশ ২ | 15,000 | 1,835,000 |
| দেশ ৩ | 15,000 | 1,835,000 |
অধিকাংশ দেশে ভিসা আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করার প্রথা রয়েছে। তবে, refundable বন্ডের মাধ্যমে ভিসা নিশ্চিত করা তুলনামূলকভাবে নতুন। উদাহরণস্বরূপ, নিউজিল্যান্ড পূর্বে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা বাতিল করে। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ড প্রবর্তন করেছিল, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র এই সম্প্রসারিত তালিকাকে ভিসা overstays প্রতিরোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তবে এটি নতুন তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য আর্থিক চাপও বৃদ্ধি করতে পারে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরিকল্পনা করছেন।