শনিবার, ৩০ই মে ২০২৬, ১৬শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৩০ই মে ২০২৬, ১৬শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩

কলাম

ইসলামি শাসনের অপেক্ষায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়ার নীলনকশা।

এবিএম জাকিরুল হক টিটন

প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

ইসলামি শাসনের অপেক্ষায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়ার নীলনকশা।

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র—এই বাক্যটি আজ বাস্তবতার নয়, সংবিধানের পাতায় বন্দি এক স্মৃতি মাত্র। রাষ্ট্রীয় আচরণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে একটি ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া বহু আগেই শুরু হয়েছে। ভয়াবহ সত্য হলো, এই প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আসা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা।
যারা একসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আজ তারাই মৌলবাদী শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য করে তোলার পথ সুগম করছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগের বৈষম্য, বিচারিক নীরবতা ও রাজনৈতিক আপস—সব মিলিয়ে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু সুপরিকল্পিত বন্দোবস্ত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এটি আর গুজব নয়; এটি চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা।
ইতিহাস আমাদের বারবার সতর্ক করেছে—যখনই সাম্প্রদায়িক শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রবেশ করে, তখন প্রথম আঘাত আসে রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডে। প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, সিভিল প্রশাসন এবং বিচার বিভাগ—সবকিছুই ধীরে ধীরে পেশাদার প্রতিষ্ঠান থেকে রূপ নেয় আদর্শিক আনুগত্য যাচাইয়ের যন্ত্রে। সেখানে যোগ্যতা, আইন ও সংবিধানের বদলে মুখ্য হয়ে ওঠে ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক বিশ্বাস।
এর ফল আমরা ইতোমধ্যেই দেখছি—আত্মস্বীকৃত অপরাধী, সহিংসতায় জড়িত মৌলবাদীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েও গ্রেপ্তার এড়িয়ে যায় কিংবা দ্রুত মুক্তি পায়। অথচ নিরপরাধ রাজনীতিক, আমলা, সাংবাদিক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর অন্ধকার কারাগারে বন্দি থাকেন। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি কাঠামোগত বৈষম্যের ইঙ্গিত।
মৌলবাদী রাজনীতির দর্শনে আধুনিক রাষ্ট্রের কোনো স্থান নেই। সংবিধান, সংসদ, জনগণের সার্বভৌমত্ব কিংবা নাগরিক অধিকার—এসব তাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় বা বিপজ্জনক ধারণা। তাদের কল্পিত রাষ্ট্র গড়ে ওঠে মধ্যযুগীয় খিলাফতি শাসনের অনুকরণে—যেখানে কর্তৃত্ববাদ, নারীবিদ্বেষ, মতপ্রকাশ দমন এবং ভিন্নমত নির্মূলই শাসনের ভিত্তি। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সেখানে কেবল ‘পশ্চিমা ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
এই পথে বাংলাদেশকে ঠেলে দেওয়া মানে ইতিহাসকে অস্বীকার করা এবং দেশকে শতাব্দী পেছনে ঠেলে দেওয়া।
এই শাসনব্যবস্থার প্রথম ও প্রধান শিকার হবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী, মুক্তচিন্তক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীরা। ধর্মের নামে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বৈধতা পাবে, মতপ্রকাশ অপরাধে পরিণত হবে, আর প্রশ্ন করাই রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত হবে। সামাজিক সম্প্রীতির জায়গায় জন্ম নেবে ভয়, সন্দেহ ও সহিংসতার সংস্কৃতি।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ কমবে, রপ্তানি বাজার সংকুচিত হবে, কূটনৈতিক সম্পর্ক দুর্বল হবে এবং উন্নয়নের বহুল প্রচারিত সাফল্যগাথা ভেঙে পড়বে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের—তাদের সামনে একটি আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো। যে সরকারের দায়িত্ব ছিল একটি নিরপেক্ষ, নিরাপদ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, সেই সরকার আজ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের প্রশ্নে কার্যত নীরব। এই নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়—এটি একটি রাজনৈতিক অবস্থান। ইতিহাস বলে, যখন মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন চুপ থাকা মানেই তাকে শক্তিশালী করা।
আজ প্রশ্ন আর ‘ইসলামি শাসন ভালো না খারাপ’—এই সরল বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। আসল প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হচ্ছে? ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে কি রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে?
আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি, তা একটি গভীর সংকটের স্পষ্ট পূর্বাভাস। রাষ্ট্রীয় নীরবতা, প্রশাসনিক পক্ষপাত এবং রাজনৈতিক স্বার্থপরতা মিলিত হয়ে এমন এক বাস্তবতা তৈরি করছে, যেখানে মৌলবাদী শক্তি শুধু মাথা উঁচু করছে না—বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের ওপর শত্রুভাবাপন্ন শক্তি হিসেবে অবস্থান নিচ্ছে।
এই মুহূর্তে নীরবতা মানেই সহযোগিতা। যারা আজও মুখ খুলছেন না, তারা ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের নাগরিক সচেতনতা, কণ্ঠস্বর ও প্রতিরোধের ওপর। যদি আমরা এখনই মৌলবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত না হই, তবে খুব শিগগিরই এই দেশ আর আমাদের থাকবে না।
তাই আসুন, এখনই আওয়াজ তুলি—
“মৌলবাদী অপশক্তিকে আজই রুখুন—আগামীকাল দেরি হয়ে যাবে।”

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক