খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে ফুটবল বাজারে ব্যয় এখন দৃষ্টিকটু রেকর্ডে পরিণত হয়েছে। চলতি জানুয়ারির দলবদলে ক্লাবটির সবচেয়ে বড় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বোর্নমাউথের ঘানার উইঙ্গার অ্যান্টনি সেমেনিওকে ৭.২০ কোটি ইউরোয় কিনে নেওয়ার মাধ্যমে। এই লেনদেনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো, গার্দিওলার হাতে খরচের সীমাহীন স্বাধীনতা রয়েছে।
গার্দিওলা, যিনি ২০১৬ সালে সিটির কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন, তার অধীনে ক্লাবটি এখন পর্যন্ত ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাব অনুযায়ী ২০৩ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮,৮৮৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা) খরচ করেছে। এটি কোনো প্রিমিয়ার লিগ কোচের তুলনায় সর্বোচ্চ। যদিও মোট খরচ অনেক বেশি, নেট খরচ (খেলোয়াড় কেনার খরচ থেকে বিক্রির অর্থ বাদ দিয়ে) ১০১ কোটি ইউরো, যা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা আর্সেনালের চেয়ে কম।
গার্দিওলার এই ব্যয়ের পেছনে রয়েছে ক্লাব মালিক আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পেট্রো ডলার।
| র্যাংক | কোচের নাম | ক্লাব/দায়িত্বকাল | মোট খরচ (ইউরো) | বাংলাদেশি মুদ্রা (কোটি) |
|---|---|---|---|---|
| ১ | পেপ গার্দিওলা | ম্যানচেস্টার সিটি (2016–বর্তমান) | 203 কোটি | 28,888.93 |
| ২ | দিয়েগো সিমিওনে | আতলেতিকো মাদ্রিদ (2011–বর্তমান) | 122 কোটি | 17,361.82 |
| ৩ | আন্তোনিও কন্তে | চারটি ক্লাব (2016–বর্তমান) | 119 কোটি | 16,934.89 |
ট্রান্সফারমার্কেটের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত ২৫৮ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬,৭১৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা) খরচ হয়েছে। এর পরে তালিকায় অবস্থান করছে জোসে মরিনিও ১৯৯ কোটি ইউরো এবং কার্লো আনচেলত্তি ১৮০ কোটি ইউরো খরচ করে।
গার্দিওলার ব্যয় শুধুমাত্র ইংল্যান্ডে সীমাবদ্ধ নয়; তার কোচিং দর্শন অনুযায়ী তিনি প্রতিটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লিগে সর্বোচ্চ মানের খেলোয়াড় সংগ্রহের চেষ্টা চালান। এর মাধ্যমে দলবদল বাজারে তার প্রভাব, কৌশল এবং ক্লাবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দক্ষতা প্রতিফলিত হয়।
এই রেকর্ডখোলা ব্যয় ফুটবল বিশ্বের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেখায় যে গার্দিওলা শুধু কোচ হিসেবে নয়, তার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতাতেও বিশ্বের শীর্ষে।