খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইতিহাসগড়া এক মৌসুমের পর নতুন মৌসুমে এসে ধারাবাহিকতা হারাতে বসেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। ফর্মহীন অবস্থায় থাকা এবং সদ্য কোচ বরখাস্ত করা রেনের বিপক্ষে ৩–১ গোলে হার প্যারিসিয়ানদের জন্য নিঃসন্দেহে বিব্রতকর অধ্যায় হয়ে থাকল। বড় ম্যাচের আগে রেন টানা পাঁচটি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। তার ওপর ক্লাবটি গত সপ্তাহেই তাদের প্রধান কোচ হাবিব বেয়েকে বরখাস্ত করে। ফলে কোনো স্থায়ী কোচ ছাড়াই মাঠে নামে স্বাগতিক দল। তবু সংগঠিত রক্ষণভাগ ও কার্যকর প্রতি-আক্রমণে তারা শক্তিশালী পিএসজিকে ধরাশায়ী করে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ সামনে রেখে লিগ ওয়ানের এই ম্যাচটি এগিয়ে এনে খেলেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপীয় লড়াইয়ের আগে দলের ছন্দ ধরে রাখা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। মোনাকো ম্যাচের আগে এই প্রস্তুতি ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হয় পিএসজি। টানা সাতটি ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রেনের মাঠে নামলেও ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে থেকেও গোলের খাতায় তার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি সফরকারীরা।
পরিসংখ্যান বলছে, পিএসজি পুরো ম্যাচে ৬৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল। তারা ১৭টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে রেন নেয় ১৩টি শট, লক্ষ্যে রাখে ৪টি। তবে স্বাগতিকদের গোলরক্ষক ব্রিস সাম্বা দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান। একের পর এক ছয়টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে তিনি পিএসজির আক্রমণভাগকে হতাশায় ডুবিয়ে দেন। সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে না পারার এই ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
আক্রমণ-প্রতি-আক্রমণে ভরপুর ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে রেন এগিয়ে যায়। ডান দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোলে রূপ দেন মুসা আল-তামারি। বিরতির পর ৬৯তম মিনিটে কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এসতেবান লেপল। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পিএসজি মরিয়া হয়ে ওঠে ম্যাচে ফেরার জন্য। ৭১তম মিনিটে উসমান দেম্বেলে একটি গোল শোধ করে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও ৮১তম মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে ব্রিল এমবোলোর গোলে সফরকারীদের সব আশা চূর্ণ হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে হতাশ কণ্ঠে পিএসজির কোচ লুইস এনরিক বলেন, এই ধরনের হার দলের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে এবং প্রতিপক্ষকে বিশ্বাস জোগায় যে পিএসজির বিপক্ষে জেতা সম্ভব। অন্যদিকে ব্যালন দ’অরজয়ী দেম্বেলে বলেন, গত মৌসুমে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতাই তাদের শক্তি ছিল। মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে আবার সেই দলগত ঐক্য ও মনোভাব ফিরিয়ে আনাই এখন পিএসজির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
| সূচক | রেন | পিএসজি |
|---|---|---|
| গোল | ৩ | ১ |
| বল দখল (%) | ৩১ | ৬৯ |
| মোট শট | ১৩ | ১৭ |
| লক্ষ্যে শট | ৪ | ৭ |
| গোলরক্ষকের সেভ | ৬ | ১ |
| কর্নার | ৫ | ৮ |