খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
গত সপ্তাহে মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার সেফ হোম থেকে তুলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, একই ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রেও নেওয়া হতে পারে কি না। এই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, পুতিনের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এই প্রশ্নটি আসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মন্তব্যের কিছু দিন পর। জেলেনস্কি মাদুরোর ঘটনায় উল্লেখ করে বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র এক অঞ্চলের স্বৈরশাসককে মোকাবিলা করতে পারে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপও তারা জানে।” জেলেনস্কির এই মন্তব্য রাশিয়ার ওপর সম্ভাব্য চাপ বৃদ্ধির কল্পনা উসকে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসে তেল ও গ্যাস খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে “সর্বদা ভালো সম্পর্ক” বজায় রাখতে চান। এছাড়া তিনি প্রকাশ করেছেন যে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এক বছরের যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা চেষ্টা সফল না হওয়ায় তিনি হতাশ।
যুক্তরাষ্ট্রের মাদুরো অপসারণের ঘটনায় মস্কো কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়ার জাতিসংঘ দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া এই পদক্ষেপকে ‘ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বকে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়। ভেনেজুয়েলার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই পদক্ষেপকে অবৈধ ও অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং আটক মাদুরো ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিচের সারণিতে মাদুরো অপসারণ ও পুতিন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরা হলো—
| ব্যক্তি/সংস্থা | সম্ভাব্য পদক্ষেপের অবস্থান | প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| ডোনাল্ড ট্রাম্প | পুতিনকে নেওয়ার প্রয়োজন নেই | ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চান; ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতিতে মন্তব্য |
| ভলোদিমির জেলেনস্কি | যুক্তরাষ্ট্র স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে | মাদুরোর অপসারণকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ |
| ভাসিলি নেবেনজিয়া (রাশিয়া) | পদক্ষেপকে ‘ডাকাতি’ বলেছে | বিশ্ব অস্থিরতার সতর্কতা |
| ডেলসি রদ্রিগেজ (ভেনেজুয়েলা) | যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে অবৈধ আখ্যায়িত | মাদুরোর মুক্তির দাবি |
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য রাশিয়ার ক্ষেত্রে সংযত পদক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের তুলনায় রাশিয়ার ওপর সরাসরি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নেই। জেলেনস্কির মন্তব্য ইউক্রেনের কূটনৈতিক স্বার্থ এবং শক্তিশালী সমর্থন চাওয়ার কৌশল প্রতিফলিত করছে।
মোট কথা, ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে মাদুরোর ঘটনা অন্য কোনো নেতার ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি হবে না, এবং রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা তার প্রাথমিক লক্ষ্য।