খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৬ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
যুদ্ধ শুরুর তিন বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ মে) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরকূটনৈতিক চাপের ফল বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এটি।
ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর ধারে অবস্থিত দোলমাবাহচে প্রাসাদে আয়োজিত এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। আলোচনায় ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের অর্ধেক সেনা পোশাকে থাকলেও রাশিয়ান প্রতিনিধিরা ছিলেন স্যুট পরে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে হাকান ফিদান বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি। আমি দেখতে পাচ্ছি উভয় পক্ষ শান্তির নতুন একটি সুযোগ তৈরিতে আগ্রহী। এই আলোচনাই যেন দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি পথ—একটি শান্তির দিকে, অন্যটি ধ্বংস ও মৃত্যুর দিকে। কোন পথে যাবে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেই নির্ধারণ করতে হবে।’
২০২২ সালের মার্চে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি রাশিয়ার হাতে থাকা অপহৃত শিশুদের ফেরত আনা এবং বন্দি বিনিময় নিশ্চিত না হলে প্রকৃত শান্তি সম্ভব নয়।
অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে চায় এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে মস্কোর আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইউক্রেন পশ্চিমা অস্ত্র সংগ্রহ এবং নতুন সেনা মোতায়েন করতে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনার প্রস্তাব দিলেও নিজে অংশ না নিয়ে মাঝারি পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল পাঠান। ইউক্রেনও সমান মাত্রার প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, এটি পুতিনের একটি কৌশলগত সময়ক্ষেপণ, প্রকৃত শান্তিচেষ্টার ইঙ্গিত নয়।
আলোচনার সময় ইস্তাম্বুলে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইউক্রেনবিষয়ক দূত কিথ কেলগ।
রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিনিধিদলের মাত্রা বিবেচনায় বড় কোনো অগ্রগতি সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। তবে আমি ভুল প্রমাণিত হতে চাই। আমি চাই আগামীকাল খবরের শিরোনাম হোক—‘যুদ্ধবিরতি হয়েছে, শান্তি আলোচনা শুরু।’
এদিকে, আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ইউক্রেনের ডিনিপ্রো শহরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হয় এবং বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই দিনে রাশিয়া দাবি করে, তারা পূর্ব ইউক্রেনে আরও দুটি গ্রাম দখল করেছে।
বর্তমানে রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ এবং পশ্চিমা হুমকি ঠেকাতেই তারা ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে। তবে কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্ররা একে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করছে।
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি জানিয়েছেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার রুশ সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ইউক্রেন এক ‘নিঃশেষকরণ যুদ্ধের’ মুখোমুখি।
খবরওয়ালা/এন