খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারি সহায়তার (ভিজিএফ) কার্ডের অনলাইন আবেদন ও চাঁদা আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির কর্মী আব্দুল আজিজ (৩৫) হত্যার ঘটনায় দলের আরেক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আটক করা হয় তাঁকে। আটক ব্যক্তির নাম মাহাবুল মাস্টার (৫২)। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশ এর যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়।
গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের স্কুল বাজার এলাকায় আব্দুল আজিজকে হত্যা করা হয়। তিনি স্থানীয় খেলাফত উদ্দীনের ছেলে এবং বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মথুরাপুর কলেজপাড়া এলাকার আব্দুল আজিজের সঙ্গে একই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে পলাশের (৩২) দীর্ঘদিন ধরে ভিজিএফ কার্ডের অনলাইন আবেদন ও চাঁদা আদায়কে ঘিরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে আজিজ স্কুল বাজার এলাকাতে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় পলাশের ছুরিকাঘাতে আজিজ গুরুতর আহত হন এবং তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত পলাশ আটক মাহাবুল মাস্টারের ভাতিজা।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় আটক মাহাবুল মাস্টার মথুরাপুর কলেজপাড়া এলাকার মৃত মৌলা বক্সের ছেলে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে তিনি জড়িত। গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে ‘মোরগ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি।
মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুরাত আলী সেন্টু বলেন, ‘মাহাবুল মাস্টার আমাদের রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি কমিটির কোনো পদে নেই। তবে তাঁকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।’
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভিজিএফের কার্ডের অনলাইন আবেদন নিয়ে বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পরপরই র্যাব-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাহাবুল মাস্টারকে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে আজ ।’
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া র্যাব-১২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। আটক মাহাবুল মাস্টারকে দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএস