খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে পৌষ ১৪৩২ | ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিপিএলের মঞ্চে আজ রচিত হলো এক অনন্য ইতিহাস। ক্রিকেট বিশ্বে বাবা ও ছেলের একই দলের হয়ে খেলার ঘটনা বিরল হলেও, আজ আফগান তারকা মোহাম্মদ নবী এবং তাঁর পুত্র হাসান ইসাখিল সেই তালিকায় নিজেদের নাম লেখালেন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে খেলতে নেমে কেবল মাঠেই নামেননি তারা, বরং দলের জয়ে পালন করেছেন মুখ্য ভূমিকা। বিশেষ করে হাসানের অনবদ্য ইনিংসটি নোয়াখালীকে বড় সংগ্রহ এনে দিলেও, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সেঞ্চুরি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চারদিকে আলোচনা চলছে।
ইতিহাস গড়া বাবা-ছেলের জুটি
মোহাম্মদ নবী এবং হাসান ইসাখিল এর আগে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে ছয়বার একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়লেও, এবারই প্রথম একই জার্সিতে সতীর্থ হিসেবে মাঠে নামেন। নোয়াখালীর ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময় চতুর্থ উইকেটে এই বাবা-ছেলে জুটি ৩০ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৫৩ রান যোগ করেন। নবী যখন আউট হয়ে সাজঘরে ফিরছিলেন, তখন হাসান ব্যক্তিগত ৯২ রানে অপরাজিত ছিলেন। জয়ের ভিত গড়তে তাঁদের এই সম্মিলিত প্রয়াস ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
ম্যাচ ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের সারণিতে দেওয়া হলো:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| খেলোয়াড়দ্বয় | মোহাম্মদ নবী (বাবা) ও হাসান ইসাখিল (ছেলে)। |
| দলের নাম | নোয়াখালী এক্সপ্রেস। |
| জুটির অবদান | ৩০ বলে ৫৩ রান (চতুর্থ উইকেট)। |
| হাসানের ব্যক্তিগত স্কোর | ৯২ রান (৫৪ বল)। |
| হাসানের পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ | ৭২ রান। |
| ম্যাচের ফলাফল | নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৪১ রানে জয়ী। |
| সেঞ্চুরি মিসের কারণ | বড় শট খেলতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ আউট। |
বাবার পরামর্শ বনাম ছেলের আক্রমণাত্মক মেজাজ
ইনিংসের ১৮তম ওভারের শেষ বলে নবী যখন আউট হন, তখন হাসানের শতক পূর্ণ হতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৮ রান। সাজঘরে ফেরার আগে নবী তাঁর ছেলেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে তিনি ছক্কা মারার ঝুঁকি না নিয়ে বল মাটিতে খেলে সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করেন। নবী বলেন, “আমি ওকে বলেছিলাম হাতে ১২ বল আছে, তুমি শুধু সিঙ্গেল নিয়ে খেলো।” কিন্তু বাবার সেই সাবধানবাণী কানে তোলেননি হাসান। সাইফউদ্দিনের বলে বড় ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন তিনি।
আক্ষেপহীন হাসান ও গর্বিত পিতা
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাবার পাশেই বসেছিলেন হাসান। সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তাঁর কোনো আফসোস নেই। হাসানের ভাষায়, “আমি আসলে দলের জন্য বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির চেয়ে ছক্কা মেরে রান বাড়ানোই তখন জরুরি মনে হয়েছিল।” ছেলের এমন মানসিকতায় নবীও গর্বিত। তিনি জানান, বাংলাদেশের কঠিন উইকেটে এমন ব্যাটিং করা সহজ নয় এবং হাসান গত ২০ দিন ধরে এই দিনটির জন্যই কঠোর পরিশ্রম করেছে।
৯২ রানের এই ইনিংসটি হাসানের ৩১ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। সেঞ্চুরি না পেলেও বাবার সাথে একই দলে খেলে জয় পাওয়াটাই তাঁর কাছে বড় সার্থকতা হিসেবে ধরা দিয়েছে।