খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
রংপুরে রেক্টিফাইড স্পিরিট বা অবৈধ মদ পানে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সর্বশেষ ঘটনায় বিক্রেতাসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে গত তিন দিনে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং মদ কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় অ্যালকোহল পানের ঘটনায় নতুন করে দুজন মারা যান। তারা হলেন—গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। এর পাশাপাশি বুধবার সকালে একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া স্পিরিট বিক্রেতা জয়নাল আবেদীনও মৃত্যুবরণ করেন।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার অভিজিৎ চৌধুরী জানান, বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন বন্দি হিসেবে কারাগারে নেওয়া হয়। কারাগারে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল সাতটায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হন। ওই রাতেই ঘটনাস্থলে মারা যান বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, নগরীর হাজিরহাট থানার বালারবাজার এলাকায় অ্যালকোহল পানে অসুস্থ হয়ে মানিক চন্দ্র রায় (৬০) নামে এক ব্যক্তি পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পুলিশ জানায়, এসব ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জয়নাল আবেদীনকে ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মদ পানে নিহতদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| তারিখ | এলাকা | নিহতের সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১১ জানুয়ারি | শ্যামপুরহাট, বদরগঞ্জ | ৩ | ঘটনাস্থলে মৃত্যু |
| ১২ জানুয়ারি | হাজিরহাট, রংপুর | ১ | হাসপাতালে মৃত্যু |
| ১৩ জানুয়ারি | শ্যামপুর, বদরগঞ্জ | ২ | রাতে মৃত্যু |
| ১৪ জানুয়ারি | রংপুর মেডিক্যাল কলেজ | ১ | বিক্রেতার মৃত্যু |
| মোট | — | ৭ জন | — |
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, মদ কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। অনেক সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এমনকি কারাগারে থাকার সময়েও তাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ মদের সরবরাহ বন্ধ করা গেলে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। এ ঘটনায় প্রশাসনের সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।