খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আলোচিত ‘চিফ হিট অফিসার’ বুশরা আফরিনকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত। দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান তাকে মেয়রের দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা ও পারিবারিক সম্পদের উৎস নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দরপত্রে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের যে অনুসন্ধান চলছে, বুশরা আফরিনকে ডাকার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। মেয়রের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদে তার কন্যার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এই জিজ্ঞাসাবাদের মূল লক্ষ্য।
সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যেসকল দুর্নীতির অভিযোগ দুদক খতিয়ে দেখছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| অভিযোগের ক্ষেত্র | বিবরণ |
| অবৈধ সম্পদ অর্জন | দেশ-বিদেশে (কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র) বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ। |
| মশক নিধন সরঞ্জাম | লার্ভা নিধনের যন্ত্র কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। |
| দরপত্রে কারচুপি | ডিএনসিসির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঠিকাদার নিয়োগ। |
| বিদেশে অর্থ পাচার | অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাচার করার অভিযোগ। |
| ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা | আতিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও কন্যার ওপর আদালতের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা। |
বুশরা আফরিন ২০২৩ সালের মে মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ‘চিফ হিট অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। এশিয়ার কোনো শহরে প্রথম এই পদটি তৈরি করা হয়েছিল। বুশরা ঢাকার একটি স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায় শেষ করে কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ঘানার একটি প্রতিষ্ঠানেও লোকাল গভার্নমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে তার এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পারিবারিক প্রভাবে হয়েছিল কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন ছিল।
গত ৭ জানুয়ারি ঢাকার একটি আদালত আতিকুল ইসলামের স্ত্রী শায়লা শগুফতা ইসলাম ও কন্যা বুশরা আফরিনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, আতিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে, যার বৈধ আয়ের কোনো উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৬ অক্টোবর ২০২৪-এ আতিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তার দুর্নীতির থলের জট খুলতে শুরু করেছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বুশরা আফরিনকে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের হিসাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।