খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালীর কবিরহাটে শনিবার রাতে একটি বিএনপি সভার সময় সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটে রাত ১০টার দিকে, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড ২-এর কালিরহাট বাজারের পাশের কাজী বাড়ির কাছে।
নিহত ব্যক্তি হলেন মিজানুর রহমান, পরিচিত রনি, বয়স ৩৫ বছর। তিনি কবিরহাট পৌরসভার জৈনপুর গ্রামের মোঃ শাহিদের ছেলে এবং দুই সন্তানের পিতা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহতের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধও রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কালিরহাট বাজারে বিকেল ৮টায় অনুষ্ঠিত বিএনপি সভা আসন্ন ১৩তম সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত ছিল। মিজানুর সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং নিজেকে নিবেদিত দলের কর্মী দাবি করছিলেন। কিন্তু শীঘ্রই তিনি অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কয়েকজন নেতা তাকে সভা থেকে বের করে দিতে চাইলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর, কাজী বাড়ির কাছে একটি গ্রুপ মিজানুরকে আটক করে। এরপর তারা লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা পরে মরদেহ রাস্তার উপর ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ পরে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা লাঠি ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পকেটে একটি খেলনা পিস্তল ও ছুরি পাওয়া গেছে।
ওয়ার্ড ২ বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, “আমরা অফিসে নির্বাচনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। মিজানুর এসে কিছু বিপরীত বক্তব্য শুরু করলেন। তাকে বের হয়ে যেতে বলার পর তিনি চলে যান। পরে তার হত্যার খবর শুনি, কিন্তু কে দায়ী তা আমরা জানি না।”
কবিরহাট থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ মনজুর আলম জানান, “মিজানুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার অভিযোগ রয়েছে। তাকে একদল ব্যক্তি মারপিট করে হত্যা করেছে। মরদেহকে পোস্টমর্টেমের জন্য নোয়াখালি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
নিহতের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| নাম | বয়স | ঠিকানা | মামলার সংখ্যা | অভিযোগের ধরন |
|---|---|---|---|---|
| মিজানুর রহমান (রনি) | ৩৫ | জৈনপুর, কবিরহাট | ৬ | ডাকাতি ও অন্যান্য |
শনিবার সকাল পর্যন্ত নিহতের পরিবার আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ জমা হলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত নির্বাচনের আগে এই ধরনের সহিংসতা এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর দিক নির্দেশ করছে।