খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের জনপ্রিয় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী নেহা কক্কর বর্তমানে এক কঠিন মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর শেয়ার করা কয়েকটি রহস্যময় এবং আবেগঘন পোস্ট ভক্তদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত চাপের কারণে তিনি আপাতত সবকিছু থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পোস্টগুলো শেয়ার করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তা মুছে ফেলেন, তবে ততক্ষণে তা নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নেহা তাঁর বর্তমান মানসিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে লেখেন, “দায়িত্ব, সম্পর্ক, কাজ—এই মুহূর্তে যা কিছু মাথায় আসছে, সবকিছু থেকে বিরতি নেওয়ার সময় এসেছে।” এমনকি তিনি ভবিষ্যতে গানের জগতে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। এর পরপরই অন্য একটি পোস্টে তিনি পাপারাজ্জি ও অনুরাগী মহলের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, “দয়া করে আমাকে ক্যামেরা বা ভিডিওতে বন্দি করবেন না। আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন এবং আমাকে এই পৃথিবীতে স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিন।” শান্তির অন্বেষণে থাকা এই গায়িকার এমন আকুতি দেখে নেটিজেনরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
নেহার এই মানসিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক মুক্তি পাওয়া গান ‘ক্যান্ডি শপ’-কে ঘিরে হওয়া তীব্র সমালোচনা। গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এই গানটিতে নেহার সঙ্গে কাজ করেছেন তাঁর ভাই টনি কক্কর। গানটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কটাক্ষের শিকার হচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ গানটিকে ‘অশ্লীল’, ‘অরুচিকর’ এবং ‘কে-পপ’ বা দক্ষিণ কোরিয়ান সঙ্গীতের ব্যর্থ অনুকরণ বলে অভিহিত করেছেন। ক্রমাগত অনলাইন বুলিং এবং নেতিবাচক মন্তব্য নেহাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে ঘনিষ্ঠ মহলের ধারণা।
নেহা কক্করের ক্যারিয়ার ও সাম্প্রতিক বিতর্কসমূহ একনজরে:
| সময়কাল | ঘটনার বিবরণ | প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া |
| ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ | ‘ক্যান্ডি শপ’ গানের মুক্তি | অশ্লীলতা ও নকলের অভিযোগে ব্যাপক ট্রোলিং। |
| জানুয়ারি, ২০২৫ | মেলবোর্ন কনসার্ট বিতর্ক | দেরিতে পৌঁছানোয় দর্শকদের দুয়োধ্বনি ও মঞ্চে নেহার কান্না। |
| ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ | ইনস্টাগ্রামে রহস্যময় পোস্ট | সঙ্গীত থেকে বিরতি এবং বাঁচতে দেওয়ার আকুতি। |
| পেশাগত অবস্থান | বলিউড প্লেব্যাক ও রিয়েলিটি শো জাজ | ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও সমালোচনার মুখে। |
| মূল অভিযোগ | রিমেক গানের আধিক্য ও অতি-আবেগ | সঙ্গীতপ্রেমীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ। |
| বর্তমান অবস্থা | নিভৃতবাস ও অনিশ্চয়তা | ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ও আরোগ্য কামনা। |
নেহা কক্কর বিতর্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে তিনি নজিরবিহীন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ব্যক্তিগত কারণে কনসার্টে দেরিতে পৌঁছালে দর্শকরা তাঁকে দুয়োধ্বনি দেন। সেই সময় পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে মঞ্চেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেহা। পরে তিনি আয়োজকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কম আলোচনা হয়নি। ক্রমাগত এমন চাপের মুখে থাকা এই শিল্পী নিজেকে সামলে নিতেই হয়তো এবার ‘আমাকে বাঁচতে দিন’ বলে আকুতি জানিয়েছেন।
সঙ্গীতের ভুবনে কোটি ভক্তের ভালোবাসা পেলেও নেহার ব্যক্তিগত জীবন ও গানের ধরণের সমালোচনা সব সময় তাঁর পিছু ছাড়েনি। বর্তমানে তিনি সত্যিই গানকে চিরবিদায় বলছেন নাকি কেবল সাময়িক বিশ্রামের জন্য এই আর্তি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর ভক্তরা আশা করছেন, নেহা দ্রুত এই মানসিক ধাক্কা সামলে উঠে আবারও তাঁর চিরচেনা হাসিখুশি রূপে ফিরে আসবেন।