খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে গিয়ে ম্যাচ না খেললে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে পারে বাংলাদেশ। আজ সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিসিবি যদি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপের মূল আসরে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আইসিসি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল যে, বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার জন্য। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে ঢাকায় আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিসিবির এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু সেখানে কোনো সমাধান আসেনি। বিসিবির পক্ষ থেকে গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদল করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়।
আইসিসি বিসিবিকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার জন্য আগামী বুধবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আইসিসি সূত্রে এএফপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারত সফরে অসম্মতি জানায়, তবে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকা স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করা হবে।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ ও সূচির বর্তমান অবস্থা:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| টুর্নামেন্ট শুরুর তারিখ | ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| বাংলাদেশের গ্রুপ | গ্রুপ ‘সি’ (England, West Indies, Nepal, Italy) |
| নির্ধারিত ভেন্যু | কলকাতা ও মুম্বাই (ভারত) |
| বিসিবির প্রস্তাবিত বিকল্প | শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তর অথবা গ্রুপ অদলবদল |
| আইসিসির আলটিমেটাম | আগামী বুধবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
| বিকল্প দল | স্কটল্যান্ড (বাংলাদেশ অংশ না নিলে) |
| রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট | দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি |
ক্রীড়াঙ্গনের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান শীতল রাজনৈতিক সম্পর্ক। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের এই অভিযোগকে অতিরঞ্জিত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এরই মধ্যে গত ৩ জানুয়ারি ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের বাইরের এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন সরাসরি ক্রিকেটের বাইশ গজে আছড়ে পড়ছে।
আগামী বুধবারের সময়সীমা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ও গ্লোবাল ইমেজ রক্ষার চাপ, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সেন্টিমেন্ট—সব মিলিয়ে বিসিবি এখন এক কঠিন চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে। শেষ পর্যন্ত কি টাইগাররা কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নামবে, নাকি স্কটল্যান্ডকে সুযোগ করে দিয়ে মাঠের বাইরে থাকবে, তা জানতে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।