খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দেশীয় করপোরেট খাতকে বিদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশীয় অর্থনীতি ক্রমশ মজবুত হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল হয়ে আসায় এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে পদক্ষেপ নেওয়ার। গভর্নর এ মন্তব্য সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজিত হয় পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI) দ্বারা।
তিনি স্মরণ করান যে, সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উদ্বেগজনক হারে কমে গিয়ে বাজারের আস্থা নষ্ট হয়েছিল। তবে নীতি সংশোধন, কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ এখন পুনরায় স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং জুন মাসের মধ্যে এটি ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রিজার্ভের স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক বিকাশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গভর্নর আরও বলেন, বিদেশে বিনিয়োগকে কখনো মূলধন অপচয় হিসেবে নয়, বরং করপোরেট সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার নিশ্চিতকরণ এবং আয়ের উৎস বৈচিত্র্যকরণের একটি কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি ব্যাংকিং খাতের তরলতা পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডিসেম্বর মাসে আমদানি প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতির ধীরস্থির পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত। একই সময়ে ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ ২.২ ট্রিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ঋণ প্রদানে সক্ষম করে তুলেছে।
ঋণ পুনঃসমন্বয়ের প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব কোনো প্রকার কার্যকর হয়নি। গাজী গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ এবং মননো সিরামিকসের মতো বৃহৎ কংগ্লোমারেটের আবেদন কেবল বাস্তব ব্যবসায়িক যোগ্যতা ও নির্দিষ্ট পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বিবেচনা করে অনুমোদিত হয়েছে।
সেমিনারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের ডেপুটি হাই কমিশনার জেমস গোল্ডম্যান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০২৯ পর্যন্ত বহাল থাকবে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
নির্বাচিত অর্থনৈতিক সূচক (ডিসেম্বর)
| সূচক | মান / অবস্থা |
|---|---|
| বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ | USD 33 বিলিয়ন |
| রিজার্ভ লক্ষ্য (জুন) | USD 35 বিলিয়ন |
| আমদানি বৃদ্ধির হার | ৬% |
| ব্যাংক আমানতের বৃদ্ধি | BDT 2.2 ট্রিলিয়ন |
| পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (PMI) | 54.2 পয়েন্ট |
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, শক্তিশালী রিজার্ভ এবং উন্নত ব্যাংকিং তরলতা বিদেশি বিনিয়োগকে আরও কার্যকর করছে। দীর্ঘমেয়াদে, এই বিনিয়োগ দেশের করপোরেট খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৈচিত্র্যকরণে সহায়তা করবে।