খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে আকস্মিক এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় মিরপুর থানার পীরেরবাগ এলাকায় এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। রাজনৈতিক আধিপত্য এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা নামার ঠিক পরপরই মিরপুর পীরেরবাগ আল মোবারক মসজিদের সামনে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের হস্তক্ষেপে রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে দুই দলের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা দাবি করেছেন, ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় দুপুরে শ্যাওড়াপাড়ায়। সেখানে বিএনপি প্রার্থী মিল্টনের স্ত্রী জামায়াতের নারী কর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় জামায়াত কর্মীদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যাতে তাঁদের দুই কর্মী গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একাংশের দাবি, দলীয় কর্মসূচিতে জামায়াত কর্মীদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এবং উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার কারণেই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বর্তমান চিত্র:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | আল মোবারক মসজিদ এলাকা, পীরেরবাগ, মিরপুর। |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার সন্ধ্যা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬। |
| আহতের সংখ্যা | আনুমানিক ১০ জন (উভয় পক্ষের)। |
| নিরাপত্তা বাহিনী | সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অবস্থান। |
| চিকিৎসা সহায়তা | আহতদের স্থানীয় ইবনে সিনা ও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি। |
| বর্তমান অবস্থা | পরিস্থিতি শান্ত তবে এলাকায় থমথমে পরিবেশ। |
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মইনুল হক জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে। তিনি আরও জানান, দুই পক্ষের নেতারাই পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।
বিএনপি ও জামায়াতের মতো সমমনা রাজনৈতিক দলের মধ্যে এমন প্রকাশ্য সংঘাতকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠ পর্যায়ে দুই দলের এই দূরত্ব সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাজনীতির নামে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মিরপুরের এই সংঘর্ষ কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই উত্তেজনা প্রশমন করা কঠিন হতে পারে। আপাতত সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকায় শান্তি ফিরে আসলেও বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।