খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
রাজনৈতিক আদর্শ এবং ধর্মীয় নৈতিকতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিচিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)-এর এক প্রার্থী নিয়ে সম্প্রতি তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দলটির প্রার্থী মজিবুর রহমান শামীম-এর বিরুদ্ধে ৩৭১ কোটি টাকার ব্যক্তিগত ঋণ খেলাপি হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আলোচনায় আসার পর দলটির অন্য এক নেতার মন্তব্য, “মুসলমানের দোষ গোপন রাখা উত্তম,” আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
শামীম একজন প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি দলবদল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ নেওয়ায় তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হয়।
নিম্নলিখিত টেবিলে শামীমের ঋণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| ঋণের ধরণ | প্রতিষ্ঠান/ব্যাংক | ঋণের পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|---|
| ব্যক্তিগত ঋণ | নিজ নাম | ৩৭১ কোটি |
| ব্যক্তিগত ঋণ | স্ত্রীর নাম | ৮৩ লাখ |
| ব্যবসায়িক ঋণ | জয় ফিড মিলস | অজানা |
| ব্যবসায়িক ঋণ | জয় জুট মিলস | অজানা |
| ব্যবসায়িক ঋণ | সাউথ হ্যাচারি | অজানা |
| ব্যবসায়িক ঋণ | জয় শিপিং লাইনস | অজানা |
| ঋণ ব্যাংকসমূহ | ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক | অজানা |
ঋণসংক্রান্ত এই বিশাল অনিয়ম নিয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে ঢাকা-৮ আসনের আইএবি প্রার্থী মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী বলেন, “ইসলামের খাতিরে অন্য মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখা ভালো। আমাদের উচিত তার ভালো গুণগুলো তুলে ধরা।” তিনি সাংবাদিকদের এই বিষয়ে প্রশ্ন করতেও নিরুৎসাহিত করেন।
অপরদিকে, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বিষয়টিকে রাজনৈতিক বৈষম্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, “দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা নির্বাচন করতে পারলেও শামীমের ক্ষেত্রে কেন প্রশ্ন উঠছে?”
উল্লেখ্য, এই বিতর্কিত প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে অবশেষে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, এবং শামীমের প্রার্থিতা বাতিল করে। এই ঘটনার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নৈতিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন ওঠেছে।