খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
উৎসবের উচ্ছ্বাস আর করতালির মধ্যেই ঘটে গেল এক ভয়াবহ ঘটনা। ভারতের হরিয়ানার একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে প্রকাশ্যেই শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী মৌনী রায়। অনুষ্ঠানের দর্শকসারিতে থাকা কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তির অশালীন আচরণ মুহূর্তেই পুরো পরিবেশকে আনন্দমুখর থেকে আতঙ্কময় করে তোলে।
ঘটনার পর মৌনী রায় সামাজিক মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মঞ্চে ওঠার আগে দুই বয়স্ক ব্যক্তি তার কোমরে হাত দিয়ে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। মৌনী সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়ে হাত সরানোর জন্য বললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পারফরম্যান্স চলাকালীন তারা অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মৌনী যখন তাদের সংযত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, তখন তারা মঞ্চে গোলাপ ফুল ছুঁড়ে বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। এতে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের অস্বচ্ছন্দ ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনা এতটাই অস্বস্তিকর ছিল যে তিনি অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পেশাদারিত্বের খাতিরে শেষ পর্যন্ত পারফর্ম করেছেন।
মৌনী রায়ের বক্তব্য থেকে প্রধান তথ্যগুলো নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | হরিয়ানা, ভারত |
| হেনস্তার ধরন | শারীরিক স্পর্শ, অশালীন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি |
| মূল অভিযুক্ত | দুই বয়স্ক ব্যক্তি |
| মৌনী রায়ের প্রতিক্রিয়া | সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ, প্রতিবাদ |
| আয়োজকদের ভূমিকা | পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বা নিয়ন্ত্রণ নেই বলে অভিযোগ |
| প্রভাব | নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি, নারী নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন |
| পারফরম্যান্স অবস্থা | অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, কিন্তু পারফর্ম করেছেন পেশাদারিত্ব দেখিয়ে |
মৌনী রায় তার পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, “আমার মতো একজনকে যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তবে সাধারণ বা নতুন মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়?” তিনি আরও যোগ করেছেন, শিল্পীদের মূল্যায়ন তাদের শিল্পের মাধ্যমে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত অবহেলার কারণে হেনস্তার মতো আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অভিনেত্রী মৌনী রায় ছোট পর্দা থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার এই অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত, নারী নিরাপত্তা, পাবলিক ইভেন্টে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং মঞ্চে অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আবারও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
মৌনী রায়ের এই সাহসী প্রকাশের ফলে সমালোচনা ও সমর্থন—উভয়ই সমাজে নারী নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।