খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিলান প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে যায়, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোরের দিকে ঘটেছে এই দুর্ঘটনা, যেখানে ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন ক্রুসহ মোট ৩৫৯ জন যাত্রীর মধ্যে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া, এখনও কমপক্ষে ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন এবং ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, বাসিলানের জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে মিন্দানাও প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল ‘ত্রিশা কেরস্টিন ৩’ নামের ফেরিটি। যাত্রা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরিটি অজানা কারণে ডুবে যায়।
এখন পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতায় ১৩৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং মিন্দানাও প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে।
দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের মুখপাত্র রোনালিন পেরেজ জানিয়েছেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন জীবিতদের উদ্ধার। আমরা দ্রুত কাজ চালাচ্ছি, তবে কর্মীসংকটের কারণে তৎপরতা কিছুটা সীমিত। মিন্দানাও প্রাদেশিক প্রশাসন পুরো কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।”
ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনা অত্যন্ত বিরল না হলেও নিয়মিত খবরের শিরোনাম হয়ে আসে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি ফেরিতে আগুন লেগে ৩০ জন নিহত হয়েছিল।
উদ্ধারকৃত, নিখোঁজ ও নিহতদের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:
| তথ্যের ধরন | সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মোট যাত্রী | ৩৩২ | |
| ক্রু | ২৭ | |
| মোট ব্যক্তি | ৩৫৯ | |
| মৃত | ১৫ | উদ্ধারকৃত মৃতদেহ |
| জীবিত উদ্ধারকৃত | ১৩৮ | ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| নিখোঁজ | ৪৩ | এখনও উদ্ধারকাজ চলছে |
ফিলিপাইনের জনগণ এবং প্রশাসন জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করে উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ করছে। যদিও দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি, প্রাথমিক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ঝড়, প্রযুক্তিগত ত্রুটি অথবা ফেরির অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রী বোঝাই প্রধান কারণ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এ দুর্ঘটনা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে ফিলিপাইনের নৌপরিবহনে নিরাপত্তা মান বৃদ্ধি এবং জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব। প্রশাসন এবং কোস্টগার্ড আশা প্রকাশ করেছেন যে দ্রুততম সময়ে নিখোঁজ যাত্রীদেরও উদ্ধার করা সম্ভব হবে।