খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছে ড্যানিশ ক্লাব কোপেনহেগেনকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা ম্যাচের শুরুতেই এক গোল হজম করলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করে। বুধবার রাতের ম্যাচে কাতালানরা শারীরিক ও মানসিক উভয়ভাবেই প্রাধান্য বজায় রাখে।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেন কোপেনহেগেনের ১৭ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড ভিক্টর দাদাসন, যিনি মাত্র ৪ মিনিটে বার্সার রক্ষণকে ভেঙে দলকে এগিয়ে নেন। মোহামেদ এলইয়নুসির নিখুঁত থ্রু পাসের পরে দাদাসন একা গার্ডিয়ান জোয়ান গার্সিয়ার সামনে থেকে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠান।
পিছিয়ে পড়লেও, বার্সেলোনা বলের দখলে প্রাধান্য বজায় রাখে। প্রথমার্ধে ৭৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। রবার্ট লেভানদোস্কি এবং এরিক গার্সিয়া একাধিকবার চেষ্টার পরও কোপেনহেগেনের গোলরক্ষক দোমিনিক কোটারস্কি প্রতিরোধে সফল হন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। ৪৮ মিনিটে দানি ওলমোর থ্রু পাসের পরে লামিনে ইয়ামাল চমৎকার অ্যাসিস্ট দেন এবং রবার্ট লেভানদোস্কি সমতা ফেরান। এটি লেভানদোস্কির চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০৬তম গোল।
এরপর মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয় বার্সা। এক ঘণ্টা পার হবার পর ইয়ামালের শট ডিফ্লেকশনে জালে গিয়ে তৃতীয় গোল নিশ্চিত করে রাফিনিয়া, যিনি লেভানদোস্কির তৈরি করা পেনাল্টি থেকে গোল করেন। শেষ চূড়ান্ত আঘাত হানেন বদলি হিসেবে নামা মার্কাস রাশফোর্ড, যিনি এক চমৎকার ফ্রি-কিকে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের ফলে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। নকআউট পর্বে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (PSG) অথবা নিউক্যাসল ইউনাইটেড।
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান:
| দল | গোল | শট | শট অন টার্গেট | বলের দখল (%) | পাস সঠিকতা (%) | কর্নার |
|---|---|---|---|---|---|---|
| বার্সেলোনা | 4 | 15 | 9 | 75% | 88% | 7 |
| কোপেনহেগেন | 1 | 8 | 4 | 25% | 72% | 3 |
বার্সেলোনার দাপুটে জয় ম্যাচের পর কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, “প্রথমার্ধে যে সমস্যা ছিল তা সমাধান করে আমরা দ্বিতীয়ার্ধে মনোযোগ ধরে রেখেছি। খেলোয়াড়রা চমৎকার মানসিকতা দেখিয়েছে।”
এই জয় বার্সেলোনার জন্য শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করা নয়, ভবিষ্যতের কঠিন নকআউট ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাসও যোগিয়েছে।