খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারণী মহলে অস্বস্তি ও সংশয় দানা বাঁধছে। বিশেষ করে, রদ্রিগেজ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইরান, চীন ও রাশিয়ার মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন কি না, তা নিয়ে খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নেতিবাচক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের মাদুরো-ঘনিষ্ঠ এই নেত্রীর নির্ভরযোগ্যতা এখন হোয়াইট হাউসের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩ জানুয়ারি নিকোলা মাদুরো বন্দি হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করা দেলসি রদ্রিগেজের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা, যা মার্কিন কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করেছে। ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে দাবি করেছে যে, রদ্রিগেজকে অবশ্যই ভেনেজুয়েলা থেকে বিদেশি সামরিক উপদেষ্টা ও কূটনীতিকদের বহিষ্কার করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো পশ্চিম গোলার্ধ থেকে শত্রু দেশগুলোর প্রভাব চিরতরে খর্ব করা এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
নিচে ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
সারণি: ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংকট ও প্রধান অংশীদারদের ভূমিকা
| অংশীদার দেশ | সহযোগিতার ধরণ | মার্কিন প্রত্যাশা | রদ্রিগেজ প্রশাসনের অবস্থান |
| চীন | ঋণের বিনিময়ে জ্বালানি তেল ও পরিকাঠামো | ঋণ চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্যিক দূরত্ব | বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখা |
| রাশিয়া | ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ | রুশ সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার | নিরবতা ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ |
| ইরান | তেল শোধনাগার মেরামত ও প্রযুক্তি | কারিগরি ও জ্বালানি সহযোগিতা বন্ধ | আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই |
| যুক্তরাষ্ট্র | সামরিক তদারকি ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ | পূর্ণ সহযোগিতা ও কৌশলগত আনুগত্য | ৩-৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির অনুমোদন |
চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারি সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ কারাকাসে গিয়ে রদ্রিগেজের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন। তবে এই সফরের পরও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নেতিবাচক মনোভাবের বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি একমত কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। রদ্রিগেজ ইতিমধ্যে কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে ওয়াশিংটনকে তুষ্ট করার চেষ্টা করলেও সম্প্রতি এক বক্তৃতায় তিনি মার্কিন হস্তক্ষেপে নিজের ‘বিরক্তি’ প্রকাশ করেছেন।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসে মাচাদো অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে নেতৃত্বের কেন্দ্রে দেখতে চান। তবে গোয়েন্দাদের মতে, মাচাদো বর্তমানে সফলভাবে দেশ পরিচালনায় সক্ষম নন, কারণ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী (মিলিটারি) এবং তেল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপাতত তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো উপদেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তিনি মার্কিন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান তুরুপের তাস।
ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি বজায় রেখেছে। যদি রদ্রিগেজ মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী কোনো অবস্থান গ্রহণ করেন, তবে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর বর্তমান পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। ওয়াশিংটন তাই কেবল রদ্রিগেজের ওপর নির্ভর না করে দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও গোপন যোগাযোগ বজায় রাখছে। ভেনেজুয়েলার বিশাল জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ তখনই সম্ভব হবে, যখন দেশটি পুরোপুরি মার্কিন বলয়ে ফিরে আসবে।