খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৩ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকদের ভাষায়, এই মুহূর্তে তাঁর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং আশার কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে হাদির শারীরিক অবস্থা পরিদর্শনের পর এমন তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ডা. সাইদুর রহমান।
ডা. সাইদুর রহমান জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা হাদির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এই সময়টুকু পার করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন চিকিৎসকদের প্রধান উদ্বেগ। তাঁর ভাষায়, “গুলিটি বাম কানের ওপর দিয়ে ঢুকে ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এতে মস্তিষ্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ, বিশেষ করে ব্রেনস্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রেনস্টেম মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দনসহ জীবন রক্ষাকারী মৌলিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধরনের আঘাতকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ বলা হয়।”
বর্তমানে হাদির ওপর আর কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। হাদি সম্পূর্ণভাবে লাইফ সাপোর্টে আছেন এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সুস্থতার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখনো তাঁর শরীরে প্রাণের কিছু সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, যা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় হাদি সামান্য নিজে নিজে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা অত্যন্ত ক্ষীণ হলেও জীবনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডা. সাইদুর রহমান আরও জানান, অস্ত্রোপচারের আগেই একবার হাদি শকে চলে গিয়েছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর নাক ও গলা দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, “গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাদির দুইবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁর অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়—চরম সংকটাপন্ন। তবু তিনি এখনো বেঁচে আছেন। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।”
এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সবশেষে ডা. সাইদুর রহমান বলেন, “এই মুহূর্তে আশার গল্প শোনানোর মতো কিছু নেই। আমরা সার্বক্ষণিক তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” জীবন-মৃত্যুর সূক্ষ্ম সীমারেখায় দাঁড়িয়ে হাদির জন্য আগামী ৭২ ঘণ্টাই এখন সবচেয়ে নির্ধারক সময়।