খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন আগের সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন চরিত্রের। এখানে ভোটে জয়লাভ করলেই সরাসরি সরকার গঠনের ক্ষমতা পাওয়া যাবে না। এই নির্বাচন মূলত একটি গণপরিষদ গঠনের ভোট, যার মাধ্যমে দেশের জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নির্বাচনে জয়ী জোটের প্রধান দায়িত্ব হবে গণপরিষদ হিসেবে কাজ করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ড. ইউনুসের সময়কালের সব বিচার ও আইনগত সিদ্ধান্তকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া। অর্থাৎ, এই নির্বাচন কোনো প্রচলিত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের একটি ঐতিহাসিক ধাপ।
নতুন সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরেই অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন। সেই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতেই সরকার গঠনের পূর্ণ ক্ষমতা নির্ধারিত হবে। ফলে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভোটে জয় আর সরাসরি ক্ষমতার প্রতীক নয়—এটি একটি রূপান্তরকালীন দায়িত্বের সূচনা মাত্র।
ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন শুধুই গণপরিষদ গঠনের লক্ষ্যে, যা সংবিধানিক স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। ড. ইউনুসের বিশেষ সহকারী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ড. আলী রিয়াজ জানিয়েছেন, নতুন সংবিধানে “গণপরিষদ টাইম” নামে একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই ধারার মূল বক্তব্য হলো—সংবিধান চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে যেকোনো সরকারের ক্ষমতা সীমিত থাকবে। সেই সময়ের প্রধান দায়িত্ব হবে:
নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও পাস করা
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা
রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করা
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জুলাই আন্দোলনই মূল চালিকাশক্তি। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি বা অন্যান্য জোটের পক্ষে সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবু এখানেও স্পষ্ট—সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানেই তাৎক্ষণিক ক্ষমতা নয়; সংবিধান ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার ভূমিকা এখনো মুখ্য।
সব মিলিয়ে, এবারের ভোট কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়—এটি কেবল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপের সফল বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা।