খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তের সংখ্যা ছয় শতাধিক।
মামলাটি গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম ঝিনাইগাতী থানায় দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান চলাকালীন চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রেজাউল করিমকে প্রথমে শেরপুর জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফসান আল আলম জানিয়েছেন, নিহতের স্ত্রী মামলা করেছেন এবং গ্রেপ্তারির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিচের টেবিলে মামলার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | মাওলানা রেজাউল করিম |
| পদবী | শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি |
| ঘটনা স্থান | ঝিনাইগাতী উপজেলা, শেরপুর |
| সংঘর্ষের তারিখ | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ |
| মামলা দায়ের তারিখ | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ (রাত ১২টা) |
| মামলা দায়েরকারী | মার্জিয়া বেগম (নিহতের স্ত্রী) |
| আসামি সংখ্যা | ২৩৪ জন চিহ্নিত, ৪০০–৫০০ অজ্ঞাতনামা |
| আহতদের সংখ্যা | অন্তত ৩০ জন |
| অভিযোগ | ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যার নৃশংস ঘটনা |
| পুলিশ কর্মকাণ্ড | গ্রেপ্তারি অভিযান চলমান |
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারের কাজ দ্রুততার সঙ্গে চলছে, এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য সকল পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন।