খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফেব্রুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে নাকি কমবে—তা জানতে অপেক্ষা আর এক দিনের। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহৃত এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ মূল্য পরবর্তী এক মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিইআরসি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের সৌদি সিপি (Contract Price) অনুসারে দেশে বেসরকারি খাতে সরবরাহকৃত এলপিজির ভোক্তা মূল্য সমন্বয় করা হবে। এ বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা সোমবার দুপুর ৩টায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি), ঢাকাস্থ কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
এলপিজির দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত মাসিক সিপিকে এলপিজির মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় ডলার বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয়, টার্মিনাল চার্জ, বটলিং ও বিপণন খরচ। এসব উপাদানের সমন্বয়েই বিইআরসি প্রতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে থাকে।
জানুয়ারি মাসে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। এর আগের মাস, অর্থাৎ ডিসেম্বরে একই পরিমাণ এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে দাম বাড়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় কিছুটা বেড়েছিল। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এর প্রভাব বেশি অনুভব করেন, কারণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ না থাকা এলাকাগুলোতে এলপিজিই প্রধান জ্বালানি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দামের ওঠানামা, মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা এলপিজির দামে সরাসরি প্রভাব ফেলে। শীত মৌসুমে অনেক দেশে জ্বালানির চাহিদা বাড়ে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কিছুটা অস্থির থাকে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।
নিচের ছকে সাম্প্রতিক দুই মাসের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য তুলে ধরা হলো—
| মাস | ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম (টাকা) | মূল্য পরিবর্তন |
|---|---|---|
| ডিসেম্বর ২০২৫ | ১,২৫৩ | — |
| জানুয়ারি ২০২৬ | ১,৩০৬ | +৫৩ |
সোমবার ঘোষিত নতুন দাম বাড়লে তা ভোক্তাদের মাসিক ব্যয়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আবার দাম কমলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য। এ ছাড়া রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্ষুদ্র শিল্প ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট খাতেও এর প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে, ফেব্রুয়ারি মাসের এলপিজির নতুন দাম নিয়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ তুঙ্গে। সোমবারের ঘোষণার দিকেই এখন সবার দৃষ্টি।