খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ দিন দিন জটিল ও সহিংস হয়ে উঠছে। আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ তথা স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ককটেল বিস্ফোরণ ও ছররা গুলির আঘাতে অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন। তাঁর সমর্থকেরা মুন্সিকান্দি গ্রামে গণসংযোগ করতে গেলে ধানের শীষের সমর্থক উজির আলী ও আওলাদ মোল্লার লোকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উজির আহমেদের অনুসারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং রামদা ও দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ আতাউল করিম জানান, আহতদের শরীরে ছররা গুলি ও ককটেলের স্প্লিন্টারের গভীর ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
| আহত ব্যক্তির নাম | শারীরিক অবস্থা | বর্তমান অবস্থান |
| মো. লিজন | গুরুতর (গুলিবিদ্ধ) | ঢাকা (স্থানান্তরিত) |
| নুরুদ্দিন | আশঙ্কাজনক | ঢাকা (স্থানান্তরিত) |
| ফয়সাল হোসেন | স্থিতিশীল | স্থানীয় হাসপাতাল |
| মো. নিরব | স্থিতিশীল | প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র |
মুন্সিগঞ্জের এই সংঘাতের মূলে রয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দীর্ঘদিনের স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই। একদিকে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, অন্যদিকে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন।
মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের রাজনীতি মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত। ফুটবল প্রতীকের পক্ষে নেতৃত্বে আছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমান (মল্লিক) ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদ রায়হান। অন্যদিকে, ধানের শীষের নেতৃত্বে রয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আহমেদ ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আওলাদ হোসেন মোল্লা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মল্লিক ও উজির গ্রুপের এই পুরোনো বিরোধ গত বছর নভেম্বরেও প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছিল, যেখানে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বর্তমান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই পুরোনো শত্রুতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
ঘটনার পর পর মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সেখান থেকে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা ও বিস্ফোরিত ককটেলের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে। ওসি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
নির্বাচনী মাঠে এই ধরণের সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মনে গভীর ভীতি সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় কোন্দল মেটাতে না পারলে আগামী নির্বাচনের দিনগুলোতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা থেকে যায়।