খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে মাঘ ১৪৩২ | ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় এক জামায়াত নেতার মালিকানাধীন মৎস্য প্রকল্প থেকে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও জিআই পাইপ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের মগুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশের ‘আল বাশারাত মৎস্য প্রজেক্ট’ এলাকায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে এসব সামগ্রী উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—গন্ধক, মইঞ্জাল (দেশীয় বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান বলে ধারণা করা হয়), ফুয়েল পেপার, সিলেকশন পাথর, দুই শতাধিক খালি জর্দার কৌটা এবং শতাধিক জিআই পাইপ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, এসব উপাদান দেশীয় ককটেল বা পাইপবোমা তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মৎস্য প্রকল্পটির মালিক হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মামুনের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, কয়েকদিন ধরে প্রকল্পে অস্বাভাবিকভাবে বস্তা আনা-নেওয়া হচ্ছিল। বুধবার দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন ব্যক্তি এসে কয়েকটি বস্তা নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে এলাকাবাসী প্রকল্পের একটি পরিত্যক্ত ভবনে ঢুকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেন। পরে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
নিচে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | উদ্ধারকৃত সামগ্রী | আনুমানিক পরিমাণ | সম্ভাব্য ব্যবহার (প্রাথমিক ধারণা) |
|---|---|---|---|
| ১ | গন্ধক | উল্লেখযোগ্য পরিমাণ | বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরিতে উপাদান |
| ২ | মইঞ্জাল | অজানা পরিমাণ | দেশীয় ককটেল প্রস্তুতে ব্যবহৃত উপকরণ |
| ৩ | ফুয়েল পেপার | একাধিক বান্ডিল | আগুন জ্বালানো বা বিস্ফোরণ সক্রিয়করণ |
| ৪ | সিলেকশন পাথর | কয়েক বস্তা | ঘর্ষণ বা স্পার্ক তৈরিতে সম্ভাব্য ব্যবহার |
| ৫ | খালি জর্দার কৌটা | ২০০টির বেশি | ককটেলের খোলস হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা |
| ৬ | জিআই পাইপ | ১০০টির বেশি | পাইপবোমা সদৃশ বস্তু তৈরির সম্ভাবনা |
তবে স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা নোমান এ ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং যুব বিভাগের নেতা মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় করতে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা সাজিয়েছে। তিনি স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন।
অন্যদিকে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে জিআই পাইপসহ বিভিন্ন সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। তবে এসব উপকরণ প্রকৃতপক্ষে ককটেল তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি, তবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে এমন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা নির্বাচনপূর্ব নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।