খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জয়পুরহাট-২ আসনের কালাই উপজেলায় নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যালট পেপারের ফটোকপি তৈরি ও বিতরণের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর এক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার মাত্রাই বাজারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এই বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে একটি ফটোকপি দোকানের মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ব্যালট পেপারের ফটোকপি জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মাত্রাই বাজারের ‘সরকার ফটোকপি অ্যান্ড টেলিকম’-এর মালিক নির্মল চন্দ্র সরকার (৫১) এবং তাঁর দুই সহযোগী জহুরুল ইসলাম (২৬) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩০)। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী জানতে পারে যে মাত্রাই বাজারের একটি দোকানে মূল ব্যালট পেপারের আদলে হুবহু ফটোকপি তৈরি করা হচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রথমে সেনাবাহিনীর একটি দল দোকানটিতে তল্লাশি চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যোগ দিয়ে জালিয়াতির প্রমাণস্বরূপ ২৭২টি ব্যালট পেপারের ফটোকপি হাতে-নাতে জব্দ করেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনাস্থল | মাত্রাই বাজার, কালাই উপজেলা, জয়পুরহাট |
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি | নির্মল চন্দ্র সরকার, জহুরুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান |
| জব্দকৃত আলামত | ২৭২টি ব্যালট পেপারের ফটোকপি |
| অভিযান পরিচালনাকারী | সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনী |
| অভিযোগের ধরন | নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন ও ব্যালট পেপার জালকরণ |
| বর্তমান অবস্থা | গ্রেপ্তারকৃতরা থানায় আটক ও মামলার প্রক্রিয়া চলছে |
জিজ্ঞাসাবাদে দোকান মালিক নির্মল চন্দ্র সরকার স্বীকার করেছেন যে, তিনি মোট ২৭২টি ব্যালট পেপার ফটোকপি করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ফটোকপিগুলো স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছিল। আইন অনুযায়ী, মূল ব্যালট পেপারের অনুরূপ কোনো কপি তৈরি বা সাধারণ জনগণের কাছে থাকা সম্পূর্ণ অবৈধ।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী দাবি করেছেন যে, ভোটারদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে বা ‘নমুনা ব্যালট’ হিসেবে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাঁদের মতে, অনেক বয়স্ক ভোটার ভোট দেওয়ার সময় ভুল করতে পারেন, তাই তাঁদের সচেতন করতেই এই উদ্যোগ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, আসল ব্যালট পেপার হাতে পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও এগুলো কীভাবে তৈরি হলো এবং এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের আগের রাতে বা কয়েক দিন আগে ব্যালট পেপার ফটোকপি করা বা সেগুলো বিতরণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি ভোটারদের বিভ্রান্ত করার একটি অপকৌশল হতে পারে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি।” গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর মাত্রাই বাজারসহ সমগ্র জয়পুরহাট-২ আসনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে বা ভেতরে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।