খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে দেশের মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবা যেমন বিকাশ, নগদ, এবং রকেট-এর উপর প্রযোজ্য সাময়িক সীমাবদ্ধতা তুলে নিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ভোটের সময়ে অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধ করতে ৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রযোজ্য ছিল। এই চার দিনের ব্যবধানে পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) লেনদেন একবারে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং দৈনিক সর্বাধিক ১০টি লেনদেনে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ব্যবসায়িক (Merchant) লেনদেন এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধ প্রভাবিত হয়নি।
সীমাবদ্ধতা কার্যকর হওয়ার পর গ্রাহকরা জরুরি লেনদেনে অসুবিধার মুখে পড়েন। ধারা অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে P2P লেনদেনও অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সীমাবদ্ধতার ফলে নাগরিকরা আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের কাছে টাকা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে সমস্যার সম্মুখীন হন।
সীমাবদ্ধতার মূল শর্তাবলী ছিল:
| ধারা | সীমাবদ্ধতা |
|---|---|
| মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) P2P লেনদেন | সর্বাধিক ১,০০০ টাকা প্রতি লেনদেন |
| দৈনিক P2P লেনদেন সংখ্যা | সর্বাধিক ১০টি |
| ইন্টারনেট ব্যাংকিং P2P লেনদেন | অস্থায়ীভাবে বন্ধ |
| ব্যবসায়িক (Merchant) লেনদেন | সীমাবদ্ধ নয় |
| ইউটিলিটি বিল পরিশোধ | সীমাবদ্ধ নয় |
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন শেষে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে এই ৯৬ ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের P2P লেনদেন আগের নিয়ম অনুযায়ী চলবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষজ্ঞরা বলেন, “নির্বাচনের আগে এই ধরনের সীমাবদ্ধতা প্রয়োগ দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। তবে ভোট শেষে আমরা দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সীমাবদ্ধতা তুলে নিয়েছি যাতে গ্রাহকরা স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় চালাতে পারেন।”
এর ফলে দেশের প্রায় কোটি কোটি মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহক আবার স্বাভাবিকভাবে টাকা লেনদেন, বিল পরিশোধ এবং ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনা করতে পারছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অস্থায়ী সীমাবদ্ধতা নির্বাচনী সময়ে অর্থের অপব্যবহার রোধে কার্যকর হলেও দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
এই পদক্ষেপের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকদের সচেতন করতে বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে, যাতে সীমাবদ্ধতা শেষে তারা নিরবিচ্ছিন্ন লেনদেন চালাতে পারেন।