খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোটে সারাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় হয়েও বৃহত্তর চট্টগ্রামের ছয়টি আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘না’ ভোট। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনে সব ভোটারই জুলাই সনদের বিপক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনেও ‘না’ ভোটের অগ্রগতি লক্ষ্যযোগ্য।
বেসরকারি সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় ‘না’ ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য:
| জেলা/আসন | মোট ভোটার | ‘না’ ভোট | ‘হ্যাঁ’ ভোট | প্রধান পর্যবেক্ষণ |
|---|---|---|---|---|
| রাঙ্গামাটি | ২,৭৩,৮০০ | ১,৭৯,৮০৫ | ৭১,৭১৯ | ‘না’ ভোট প্রায় ৬৬% |
| খাগড়াছড়ি | ৩,৪৩,৩১৪ | ১,৫৫,৯৪২ | বাকি | ‘না’ ভোট প্রাধান্য |
| বান্দরবান | ১,৬৩,৪২৯ | ৯০,১৫৬ | বাকি | ‘না’ ভোটে বড় ব্যবধান |
| চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) | ২,৬১,০৪৭ | ১,৩১,৪৯৩ | বাকি | ‘না’ ভোট প্রায় ৫০%+ |
| চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) | ১,৯৩,৪৯৩ | ১,২৬,৮১৪ | বাকি | ‘না’ ভোট প্রাধান্য |
| চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) | ২,২১,০৩৫ | ১,২৪,৬২৯ | বাকি | ‘না’ ভোটে বড় ব্যবধান |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান দিলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালিয়েছেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগের ভোট যুক্ত হওয়ায় এ ফলাফল এসেছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির ২৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতে বিএনপি জয়লাভ করেছে। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। উল্লেখ্য, ‘না’ ভোটে জয়ী হওয়া ছয়টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনীতিবিদ এবং নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় জনগণের July 2023 সনদ সম্পর্কিত উদ্বেগ ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতা সংরক্ষণের চেষ্টাই ‘না’ ভোটের প্রধান কারণ। চট্টগ্রামের শহরাঞ্চলেও রাজনৈতিক বিতর্ক, উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি এবং দলীয় নেতাদের স্থানীয় কৌশল ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রভাব ফেলেছে।
ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৃহত্তর চট্টগ্রামে জাতীয় রীতি থেকে কিছুটা ভিন্ন রূপের ভোটাভুটি হয়েছে, যেখানে পার্বত্য অঞ্চল ও শহরের ভোটাররা কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার চেয়ে স্থানীয় প্রভাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
এই ফলাফল আগামী নির্বাচনী এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত সহযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে।