খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৪ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি জয়নগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন। এ ঘটনায় কলেজে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে কলেজ ও এর আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় আগে থেকেই ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ মোতায়েন ছিল। তা সত্ত্বেও এই সহিংস ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকদের বরাতে জানা যায়, দুপুরের দিকে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা পূর্ববর্তী প্রশাসনের আর্থিক হিসাব ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরার ওপর হামলা চালানো হয়। এরপর একপর্যায়ে কলেজের অধ্যক্ষ, অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপরও হামলা এবং অফিস কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। হামলায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করে।
আহতদের অবস্থা ও প্রাথমিক তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—
| আহত ব্যক্তির নাম | পদবি/পরিচয় | আঘাতের ধরন | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| আব্দুর রাজ্জাক | অধ্যক্ষ | শারীরিক আঘাত | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| আলেয়া খাতুন হীরা | প্রভাষক | মারধর ও আঘাত | হাসপাতালে ভর্তি |
| রেজাউল করিম আলম | শিক্ষক | আঘাতপ্রাপ্ত | প্রাথমিক চিকিৎসা |
| নাম অজ্ঞাত | কর্মচারী | মারধর | স্থিতিশীল |
| নাম অজ্ঞাত | কর্মচারী | আঘাত | স্থিতিশীল |
প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে এসে একটি পক্ষ বিভিন্ন সময় আর্থিক হিসাব ও চাঁদার দাবি করে আসছিল। তার ভাষায়, প্রশাসনের পক্ষ নিয়ে অবস্থান নেওয়ায় তিনি হামলার শিকার হন।
অন্যদিকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা আকবর আলী দাবি করেন, তারা কলেজের পূর্ববর্তী সময়ের অনিয়ম ও আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে শিক্ষকদের পক্ষ থেকেই তাদের ওপর হামলা করা হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষের চাপ ও চাঁদা দাবির মুখে পড়েন। এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও নিরাপত্তার জন্য তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তবে হঠাৎ করেই কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।