খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এবারের আসরে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লামিনে ইয়ামালের মতো তারকা ফুটবলার ও অভিজ্ঞ কোচেরা একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার এবং ভাঙার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। মাঠে নামলেই তাঁদের সামনে উন্মোচিত হবে নতুন সব কীর্তি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়ানোর রেকর্ডটি বর্তমানে জার্মান কোচ ওটো রেহাগেলের দখলে। গ্রিসকে ২০০৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন করা এই কোচ ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ৭১ বছর বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০১০ সালের ২২ জুন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে তিনি শেষবারের মতো ডাগআউটে ছিলেন।
আগামী আসরে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন রোমানিয়া জাতীয় দলের কোচ মিরচিয়া লুসেস্কু। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮০ বছর। তবে এই রেকর্ড গড়তে হলে ‘দ্য লাইট’ খ্যাত এই কোচের দলকে উয়েফা প্লে-অফ বাধা অতিক্রম করে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করতে হবে। রোমানিয়া মূল পর্বে কোয়ালিফাই করলে টুক্রনামেন্ট চলাকালীন লুসেস্কুর বয়স ৮১ বছর ছুঁই ছুঁই হবে। অন্যদিকে, কুরাসাও দলের ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে, কারণ জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে তাঁর দল ইতিমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোসের বয়সও টুর্নামেন্ট চলাকালীন ৭৪ বছর পেরিয়ে যাবে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ডটি পর্তুগালের ডিফেন্ডার পেপের। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৯ বছর ২৮৩ দিন বয়সে গোল করে তিনি এই কীর্তি স্থাপন করেন। ২০২৬ আসরে তাঁর এই রেকর্ডটি ভাঙার সুযোগ রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১ বছর) এবং ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচের (৪০ বছর)। যদিও এর আগের বিশ্বকাপগুলোর নকআউট পর্বে তাঁদের কারোরই গোল করার নজির নেই। এই তালিকায় আরও একজন প্রতিযোগী হলেন বসনিয়া-হার্জেগোভিনার স্ট্রাইকার এডিন জেকো, যার বয়স আগামী মার্চে ৪০ বছর পূর্ণ হবে। তবে ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই স্ট্রাইকারকে রেকর্ড গড়ার মঞ্চে আসতে হলে উয়েফা প্লে-অফ পার হয়ে দলের মূল পর্ব নিশ্চিত করতে হবে।
১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে জার্মানির কোচের দায়িত্ব পালন করা হেলমুট শোন ২৫টি ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। তাঁর অধীনে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ জয় করে। ফ্রান্সকে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জেতানো কোচ দিদিয়ের দেশম এই রেকর্ড ভাঙার কাছাকাছি রয়েছেন। বর্তমানে ১৯টি ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করা দেশম যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে পারেন, তবে তিনি হেলমুট শোনের ২৫ ম্যাচের রেকর্ড স্পর্শ করবেন। কোয়ার্টার ফাইনাল অতিক্রম করলে তিনি নতুন একক রেকর্ড গড়বেন। এছাড়া হেলমুট শোনের সর্বোচ্চ ১৬টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভাঙতে দেশমের আর মাত্র ৩টি জয় প্রয়োজন। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দেশমের বর্তমান পরিসংখ্যান হলো ১৯ ম্যাচে ১৪ জয়, ৩ ড্র এবং ২ পরাজয়।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ব্রাজিল পরাজিত হলেও টুর্নামেন্টে ৪টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করে মাত্র ২১ বছর বয়সে গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়) জিতেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। তাঁর এই সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বল জয়ের রেকর্ডটি এবার ভাঙার সুযোগ রয়েছে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল, ব্রাজিলের ১৮ বছর বয়সী এস্তেভাও, ফ্রান্সের ২০ বছর বয়সী দেজিরে দুয়ে এবং আর্জেন্টিনার ১৮ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর সামনে।
পাশাপাশি, খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটি জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ খেলা ক্লোসা ২৪ ম্যাচের মধ্যে ১৭টিতে জয়লাভ করেছেন। এই রেকর্ডটি ভেঙে নিজের করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির। বর্তমানে ২৬ ম্যাচে ১৬টি জয় নিয়ে ক্লোসার ঠিক পেছনেই আছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ দলগুলো হলো আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৬টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে রয়েছে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে তিনি এই রেকর্ড গড়েন। এই রেকর্ডটি ভাঙার সবচেয়ে কাছে আছেন লিওনেল মেসি (২৬ ম্যাচে ১৩ গোল) এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৪ ম্যাচে ১২ গোল)। এই তালিকায় ৮টি করে গোল নিয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন হ্যারি কেইন, নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১১টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ব্রাজিলের সাবেক উইঙ্গার দেনিলসনের। তিনি ১২টি ম্যাচ খেলে ১১টিতেই বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমেছিলেন। ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার মার্কাস রাশফোর্ড বর্তমানে ৯ বার বদলি হিসেবে নেমে এই রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।
অন্যদিকে, গোলকিপার হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০টি ম্যাচে ক্লিন শিট (কোনো গোল হজম না করা) রাখার রেকর্ড রয়েছে ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন (১৯৯০) এবং ফ্রান্সের ফাবিয়েন বার্থেজ (২০০৬)-এর। বেলজিয়ামের ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া এই রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৫ ম্যাচ খেলে ৭টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছেন কোর্তোয়া।