খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সরকার বেসরকারি ও সরকারি খাতের কর্মীদের জন্য দৈনিক কর্মঘণ্টা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয় (MoHRE) এই নির্দেশনা জারি করেছে, যা রমজানের সময়কালে কর্মীদের সুস্থতা, ইবাদত ও পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের ধরন ও ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী নমনীয় (flexible) অথবা দূরবর্তী (remote) কর্মপদ্ধতি চালু করতে পারবে। সাধারণত UAE-তে কর্মীরা প্রতিদিন ৮–৯ ঘণ্টা কাজ করেন, কিন্তু রমজান মাসে এটি দুই ঘণ্টা কমিয়ে ৬–৭ ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে এবং কর্মীরা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাবেন।
সরকারি খাতে কর্মঘণ্টার পরিবর্তনও করা হয়েছে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার অফিস সময় হবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, আর শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। তবে যেসব পদে কাজের ধরন ভিন্ন, সেসব ক্ষেত্রে সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে।
| খাত | স্বাভাবিক সময় | রমজান সময় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সরকারি খাত | সোমবার–বৃহস্পতিবার: ৯–৫, শুক্রবার: ৯–১ | সোমবার–বৃহস্পতিবার: ৯–২.৩০, শুক্রবার: ৯–১২ | কিছু পদে ভিন্ন সময়সূচি প্রযোজ্য |
| বেসরকারি খাত | সাধারণত ৮–৯ ঘণ্টা দৈনিক | ৬–৭ ঘণ্টা দৈনিক | অতিরিক্ত কাজ ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে |
কম সময়ে কাজের সুযোগ থাকায় কর্মীরা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারবেন এবং ইবাদত ও আত্মচিন্তায় সময় দিতে পারবেন। মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজান মাসে কম কর্মঘণ্টা নতুন ধরণের সময় ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে। প্রথম কয়েক দিন হয়তো কিছুটা কষ্টকর মনে হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি কর্মীদের মনোযোগ, উৎপাদনশীলতা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
এ ছাড়াও, মন্ত্রণালয় আরও জানায় যে, কর্মঘণ্টার এই পরিবর্তন কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বল্প সময়ে লক্ষ্যভিত্তিক কাজ করার অভ্যাস তৈরি হলে কর্মীরা দীর্ঘমেয়াদে আরও দক্ষ ও সৃজনশীল হয়ে ওঠে।
এই নতুন কর্মসূচি UAE-তে রমজানের সময় শ্রমনীতি ও সামাজিক জীবনকে সঙ্গতিপূর্ণভাবে মেলাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।