খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক দিনের নাটকীয় উত্থানের পর দ্বিতীয় কার্যদিবসেই কিছুটা মূল্য সংশোধন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) লেনদেনের শুরুতে তেজি ভাব থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার (Profit Taking) প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ফলে সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই সামান্য পতন ঘটেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা এই দরপতনকে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে বাজারের একটি স্বাভাবিক ও সুস্থ আচরণ হিসেবেই গণ্য করছেন।
রোববার নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক এক লাফে ২০১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৬০১ পয়েন্টে পৌঁছেছিল। তার ঠিক পরদিনই সোমবার সূচকটি ১১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনের দিক থেকেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। এদিন ডিএসইতে মোট ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৮ কোটি টাকা কম। তবে আশাব্যঞ্জক খবর হলো, অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচকটি ৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিচে সোমবারের বাজার পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| সূচক ও লেনদেনের মানদণ্ড | ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) | চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE) |
| প্রধান সূচক | ৫,৫৯০ (১১ পয়েন্ট হ্রাস) | ৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি |
| লেনদেনের পরিমাণ | ১,২৫৭ কোটি টাকা | ১৪ কোটি টাকা |
| দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানি | ১৫৩টি | (বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ) |
| দর হ্রাস পাওয়া কোম্পানি | ২১৮টি | (বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ) |
| অপরিবর্তিত কোম্পানি | ২৬টি | – |
লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাজারের সূচক নিম্নমুখী করার ক্ষেত্রে বড় ও মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলো প্রধান ভূমিকা রেখেছে। গ্রামীণফোন, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং ওয়ালটনের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপ সূচককে ১৯ পয়েন্টের বেশি নিচে নামিয়ে দেয়। অন্যদিকে, স্কয়ার ফার্মা ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সূচককে পতন থেকে রক্ষা করতে প্রায় ২১ পয়েন্টের জোগান দিয়েছে।
পুঁজিবাজারে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক কৌতূহল উদ্দীপক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের পরদিন বিএনপি নেতাদের সংশ্লিষ্টতা থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে যে অভাবনীয় তেজি ভাব ছিল, সোমবারও তার রেশ দেখা গেছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল ব্যাংক ১০ শতাংশ এবং কেঅ্যান্ডকিউ ৫ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগের দিনের ধারাবাহিকতা ভেঙে এদিন জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত ইবনে সিনা ফার্মার শেয়ার দর ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, বড় বিনিয়োগকারীরা এখন কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে শেয়ারের মৌলভিত্তি ও দ্রুত মুনাফার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী এ প্রসঙ্গে জানান, “বড় উত্থানের পর বিনিয়োগকারীরা এক খাতের মুনাফা তুলে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তর করছেন, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক।” তাঁর মতে, বাজারের পূর্ণ স্থিতিশীলতা আসতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন। নতুন ও পুরাতন নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়াকে তিনি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
সার্বিকভাবে, সোমবারের এই মূল্য সংশোধন বাজারে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীদের এখন উচিত হুজুগে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা বিবেচনা করা।